আকরাম উদ্দিন::
সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) চালুর সব প্রস্তুতি স¤পন্ন থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে প্রায় তিন বছর ধরে এটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে জেলার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা যায়, আইসিইউ’র জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষ, শয্যা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সবই প্রস্তুত রয়েছে। তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে ইউনিটটি এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এর ফলে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিভাগীয় শহর সিলেটে যেতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। অনেক রোগীর পরিবার এই ব্যয় বহন করতেও সক্ষম নয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল এই সদর হাসপাতাল। চিকিৎসকসহ নানা সংকটের মধ্যেই এখানে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালের প্রায় অর্ধেক চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনাসহ গুরুতর রোগীদের প্রায়ই সিলেটে পাঠাতে হয়। আইসিইউ স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় এই দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। তখন সামান্য অবনতিতেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের সিলেটে পাঠাতে হতো। পরবর্তীতে ইউনিসেফের একটি প্রকল্পের আওতায় পুরাতন ভবনে ছয় শয্যার আইসিইউ ও অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব হয়, আইসিইউ বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্পের আওতায় ১০ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের কাজ শুরু হয়। কাজ শেষে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ গণপূর্ত বিভাগ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটি বুঝে নেয়। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চালু হয়নি এই ইউনিট। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি আইসিইউ চালু করতে কমপক্ষে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও তিনজন অ্যানেসথেসিস্ট প্রয়োজন। এছাড়া সহায়ক জনবলও দরকার, যা হাসপাতালের বিদ্যমান কর্মীদের মাধ্যমেই আংশিকভাবে পূরণ করা সম্ভব। তবে চিকিৎসক নিয়োগ জরুরি। এ বিষয়ে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতির চাহিদাও জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া মেলেনি। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল থেকে মানুষ চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে আসেন। প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুতর রোগীদের আইসিইউ সেবা প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই সুবিধা না থাকায় রোগীদের সিলেটে নিতে গিয়ে সময় নষ্ট হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবনহানির ঝুঁকি বাড়ে। এক রোগীর স্বজন রাজিয়া খাতুন বলেন, জরুরি মুহূর্তে আইসিইউ না থাকায় অনেক রোগীকে সিলেটে নিতে হয়। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। সবার পক্ষে খরচ বহন করাও সম্ভব হয় না। অপর রোগীর অভিভাবক সুজিত বিশ্বাস বলেন, আইসিইউ না থাকায় অনেক রোগী সেবা পাচ্ছে না। তাদেরকে সিলেটে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শহরের বাসিন্দা চন্দন চক্রবর্তী বলেন, প্রান্তিক জেলা হিসেবে আমরা স্বাস্থ্যসেবায় এমনিতেই পিছিয়ে। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। আইসিইউ চালুর দাবি দীর্ঘদিনের এটি দ্রুত চালু হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপপরিচালক) মো. মাহবুবুর রহমান স্বপন বলেন, নানা সংকটের মধ্য দিয়েও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। আইসিইউ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বার বার চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে দ্রুতই আইসিইউ চালু করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আইসিইউ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আইসিইউ চালুর কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) চালুর সব প্রস্তুতি স¤পন্ন থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে প্রায় তিন বছর ধরে এটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে জেলার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা যায়, আইসিইউ’র জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষ, শয্যা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সবই প্রস্তুত রয়েছে। তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে ইউনিটটি এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এর ফলে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিভাগীয় শহর সিলেটে যেতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। অনেক রোগীর পরিবার এই ব্যয় বহন করতেও সক্ষম নয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল এই সদর হাসপাতাল। চিকিৎসকসহ নানা সংকটের মধ্যেই এখানে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালের প্রায় অর্ধেক চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনাসহ গুরুতর রোগীদের প্রায়ই সিলেটে পাঠাতে হয়। আইসিইউ স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় এই দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। তখন সামান্য অবনতিতেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের সিলেটে পাঠাতে হতো। পরবর্তীতে ইউনিসেফের একটি প্রকল্পের আওতায় পুরাতন ভবনে ছয় শয্যার আইসিইউ ও অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব হয়, আইসিইউ বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্পের আওতায় ১০ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের কাজ শুরু হয়। কাজ শেষে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ গণপূর্ত বিভাগ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটি বুঝে নেয়। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চালু হয়নি এই ইউনিট। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি আইসিইউ চালু করতে কমপক্ষে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও তিনজন অ্যানেসথেসিস্ট প্রয়োজন। এছাড়া সহায়ক জনবলও দরকার, যা হাসপাতালের বিদ্যমান কর্মীদের মাধ্যমেই আংশিকভাবে পূরণ করা সম্ভব। তবে চিকিৎসক নিয়োগ জরুরি। এ বিষয়ে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতির চাহিদাও জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া মেলেনি। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল থেকে মানুষ চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে আসেন। প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুতর রোগীদের আইসিইউ সেবা প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই সুবিধা না থাকায় রোগীদের সিলেটে নিতে গিয়ে সময় নষ্ট হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবনহানির ঝুঁকি বাড়ে। এক রোগীর স্বজন রাজিয়া খাতুন বলেন, জরুরি মুহূর্তে আইসিইউ না থাকায় অনেক রোগীকে সিলেটে নিতে হয়। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। সবার পক্ষে খরচ বহন করাও সম্ভব হয় না। অপর রোগীর অভিভাবক সুজিত বিশ্বাস বলেন, আইসিইউ না থাকায় অনেক রোগী সেবা পাচ্ছে না। তাদেরকে সিলেটে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শহরের বাসিন্দা চন্দন চক্রবর্তী বলেন, প্রান্তিক জেলা হিসেবে আমরা স্বাস্থ্যসেবায় এমনিতেই পিছিয়ে। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। আইসিইউ চালুর দাবি দীর্ঘদিনের এটি দ্রুত চালু হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপপরিচালক) মো. মাহবুবুর রহমান স্বপন বলেন, নানা সংকটের মধ্য দিয়েও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। আইসিইউ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বার বার চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে দ্রুতই আইসিইউ চালু করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আইসিইউ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আইসিইউ চালুর কার্যক্রম শুরু করা যাবে।