স্টাফ রিপোর্টার ::
হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে জাতীয় সংসদে দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি প্রতিটি হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও বজ্রনিরোধক দ- স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় এক পর্যায়ে তিনি এই কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিনের কার্যক্রম শুরু হয় বেলা সাড়ে ৩টার দিকে।
বজ্রপাত নিয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল তার বক্তব্যে বলেন, মাননীয় ¯িপকার, আমার নির্বাচনি আসনে চারটি উপজেলা হাওর-বেষ্টিত। কৃষি ও মৎস্য আহরণের নিমিত্তে সারা বছর এই এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের হাওরে কাজ করতে হয়। কিন্তু গ্রীষ্ম ও বর্ষায় হাওরে কাজ করতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রাঘাতে অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে। অতি সম্প্রতি দেশে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, তার মধ্যে আমার আসনেই চারজন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘনত্ব অনেক বেশি। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৫টির বেশি বজ্রপাত সংঘটিত হয়। বিগত সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করলেও এ ব্যাপারে কোনও দৃশ্যমান কর্মসূচি আদ্যবধি নেই।” তিনি প্রতিটি হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র এবং বজ্রনিরোধক দন্ড স্থাপনের দাবি জানান।
জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর ৯টি দুর্যোগপ্রবণ দেশের একটি। সম্প্রতি কয়েক বছর যাবৎ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বজ্রপাত। বিশেষ করে হাওর ও উত্তরাঞ্চলে এর তীব্রতা বেশি। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওই অঞ্চলে সাইরেন বসানোর পরিকল্পনা করছি যাতে মেঘ জমলে কৃষকরা নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে। এছাড়া তালগাছ রোপণ এবং বজ্রনিরোধক টাওয়ার বসানোর গবেষণাও চলছে। আমরা বিধিমালা সংশোধন করেছি যাতে বজ্রাঘাতে গবাদি পশু মারা গেলেও কৃষকরা আর্থিক সহায়তা পায়।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর ¯িপকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।
প্রসঙ্গত, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের শ্বশুর বাড়ি সুনামগঞ্জে। তার সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল দীর্ঘ ৫৪ বছরের। গত ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিলারা হাফিজ।