বিশ্বজিত রায়::
সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরের প্রায় দুই লক্ষাধিক হেক্টর জমিনের পাকা ধান নিয়ে ত্রাহি অবস্থা হচ্ছে কৃষকের। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির পানি জমে ফলনের একটা অংশ আগেভাগেই নষ্ট হয়েছে। শেষমেষ শ্রমিক, জ্বালানি ও যন্ত্র সংকট থাকায় অবশিষ্ট ধান কাটতেও নানা ঝক্কিঝামেলায় পড়তে হচ্ছে বলছেন কৃষক। তার বিপরীতে কোন সংকট নেই জানিয়ে ৮০ ভাগ ধান পাকলে দ্রুত কর্তনের তাগিদ দিচ্ছে কৃষি অধিদপ্তর।
ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান হওয়ায় চেরাপুঞ্জির ভারি বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল বরাবরই ঝুঁকিতে পরে। পাহাড়ি ঢল নেমে বোরো ফসলের ক্ষতি হয়। এর মাঝে চেরাপুঞ্জির ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। আগাম বন্যার শঙ্কা উল্লেখ করে দ্রুত ধান কর্তনের নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
শুক্রবার হাওর ঘুরে দেখা যায়, দিরাই, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরি এলাকা নিয়ে বিস্তৃত পাগনা হাওরের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ধান কাটা এখনও বাকি। হাওরের অনেক জায়গায় কৃষক-শ্রমিক উভয়ে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে না পারার বিষয়টিও দৃশ্যমান ছিল। এর মাঝে হাতেগোণা কিছু কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্র দিয়ে পাগনার হাওরে ধান কাটতে দেখা যায়। যদিও সাড়ে ৮০০’র বেশি হারভেস্টার যন্ত্র এবং লক্ষাধিক শ্রমিক সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটে নাজেহাল কৃষক এখনও ফসল রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ দিচ্ছেন।
জামালগঞ্জের পাগনা হাওরের পাগনা বিলের আশপাশে অন্তত হাজার হেক্টর আবাদকৃত জমি সায়রে রূপ নিয়েছে। লম্বা বাঁধে (আফর) বিভক্ত পাগনা বিলের অপর অংশের জলমগ্ন অবশিষ্ট ধান বাঁচাতে শান্তিপুর গ্রামের সামনের লম্বা বাঁধে মাটি ফেলতে দেখা যায় কৃষকদের। পাগনার হাওরের লম্বা বাঁধ এলাকার জলমগ্ন জমিনে ধান কাটতে কাটতে কথা বলছিলেন শান্তিপুর গ্রামের কৃষক মো. মমিন মিয়া। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই ধানই আমাদের বাঁচার অবলম্বন। সব তলাইয়া গেছে। এখন কাঁচা-পাকনা যাই আছে তাই কাটার চেষ্টা করতাছি। ধান কাটার মানুষ নাই, মেশিনও নাই। খুব কষ্টের মধ্যে আছি।
পাগনা হাওরের গঙ্গাধরপুর অংশে ধান কাটছিলেন ওই গ্রামের কৃষক রিপন সরকার। ১৫ বছর পর ধান কাটতে কাঁচি হাতে নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বছর আমরার নিজেরাই ধান কাটন লাগতাছে। বৃষ্টি-বাদলের কারণে মেশিন (ধান কাটার যন্ত্র) ক্ষেতে চলে না, ডাইব্যা (দেবে) যায়। শ্রমিকও কম, ভাই-বান্ধব লইয়া ধান কাটতাছি। এছাড়া তো রক্ষা নাই। এই ধানই আমরার একমাত্র পুঞ্জি।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছোট-বড় ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। আগাম বৃষ্টিপাতে প্রথম ধাপে ১২১ হেক্টর ও দ্বিতীয় ধাপে এক হাজার ২১০ হেক্টরসহ মোট ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৩৩১ হেক্টর বোরো জমির। কিন্তু কৃষক ও হাওর সচেতন মানুষের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়ে অনেক গুণ বেশি। শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটের কারণেও বেকায়দায় পড়েছেন কৃষক, এমন অভিযোগ অহরহ পাওয়া যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জের সাচনা বাজারের (পরিচয়ে অনিচ্ছুক) এক তেল বিক্রেতা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল বিক্রিতে শক্ত সিন্ডিকেট কাজ করছে। যমুনা ওয়েল কোম্পানির লোকজনকে হাত করে দূর-দূরান্তে তেল বিক্রি করা হচ্ছে এখানে। সাচনা বাজারে ডিপো থাকা সত্বেও স্থানীয়রা তেল পাচ্ছে না। এমনকি খুচরা বিক্রেতা হিসেবে এজেন্সিদের কাছে এক ড্রাম ডিজেল চেয়েও পাইনি।
ভর্তুকিতে নেওয়া কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্রের মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হারভেস্টার দিয়ে ঘণ্টায় দুই একর জমি কাটার কথা, কিন্তু পানি থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। পানিতে ধান কাটতে গিয়ে অনেক সময় যন্ত্রও বিকল হচ্ছে। বৈরি আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
সাচনা বাজার যমুনা ওয়েল কোম্পানি লি.-এর ব্যবস্থাপক মো. শাহজালাল জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল ও ডিজেল এজেন্সিদের দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন এই কার্যক্রম দেখভাল করছেন। এখানে তেল কিংবা ডিজেলের কোন সংকট নেই। সিন্ডিকেট সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত হাওরে ৩৭ ভাগ এবং নন হাওরে (হাওরের বাইরে ছোট ছোট অংশ) ৫ ভাগ ধান কর্তন করা হয়েছে। ভর্তুকির আওতায় ৬০২টি এবং ভাড়ায় প্রায় ২৫০টিরও বেশি হারভেস্টার যন্ত্র ধান কাটায় সচল রয়েছে। পাশাপাশি ১ লাখ ১২ হাজারের মতো শ্রমিক ধান কর্তনে অংশ নিয়েছে। হাওরে শ্রমিক, যন্ত্র কিংবা জ্বালানির কোন সংকট নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ২৮ এপ্রিল থেকে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। চেরাপুঞ্জিতেও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ মুহূর্তে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে আগাম বন্যার শঙ্কা রয়েছে। সে জন্য কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরের প্রায় দুই লক্ষাধিক হেক্টর জমিনের পাকা ধান নিয়ে ত্রাহি অবস্থা হচ্ছে কৃষকের। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির পানি জমে ফলনের একটা অংশ আগেভাগেই নষ্ট হয়েছে। শেষমেষ শ্রমিক, জ্বালানি ও যন্ত্র সংকট থাকায় অবশিষ্ট ধান কাটতেও নানা ঝক্কিঝামেলায় পড়তে হচ্ছে বলছেন কৃষক। তার বিপরীতে কোন সংকট নেই জানিয়ে ৮০ ভাগ ধান পাকলে দ্রুত কর্তনের তাগিদ দিচ্ছে কৃষি অধিদপ্তর।
ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান হওয়ায় চেরাপুঞ্জির ভারি বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল বরাবরই ঝুঁকিতে পরে। পাহাড়ি ঢল নেমে বোরো ফসলের ক্ষতি হয়। এর মাঝে চেরাপুঞ্জির ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। আগাম বন্যার শঙ্কা উল্লেখ করে দ্রুত ধান কর্তনের নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
শুক্রবার হাওর ঘুরে দেখা যায়, দিরাই, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরি এলাকা নিয়ে বিস্তৃত পাগনা হাওরের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ধান কাটা এখনও বাকি। হাওরের অনেক জায়গায় কৃষক-শ্রমিক উভয়ে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে না পারার বিষয়টিও দৃশ্যমান ছিল। এর মাঝে হাতেগোণা কিছু কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্র দিয়ে পাগনার হাওরে ধান কাটতে দেখা যায়। যদিও সাড়ে ৮০০’র বেশি হারভেস্টার যন্ত্র এবং লক্ষাধিক শ্রমিক সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটে নাজেহাল কৃষক এখনও ফসল রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ দিচ্ছেন।
জামালগঞ্জের পাগনা হাওরের পাগনা বিলের আশপাশে অন্তত হাজার হেক্টর আবাদকৃত জমি সায়রে রূপ নিয়েছে। লম্বা বাঁধে (আফর) বিভক্ত পাগনা বিলের অপর অংশের জলমগ্ন অবশিষ্ট ধান বাঁচাতে শান্তিপুর গ্রামের সামনের লম্বা বাঁধে মাটি ফেলতে দেখা যায় কৃষকদের। পাগনার হাওরের লম্বা বাঁধ এলাকার জলমগ্ন জমিনে ধান কাটতে কাটতে কথা বলছিলেন শান্তিপুর গ্রামের কৃষক মো. মমিন মিয়া। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই ধানই আমাদের বাঁচার অবলম্বন। সব তলাইয়া গেছে। এখন কাঁচা-পাকনা যাই আছে তাই কাটার চেষ্টা করতাছি। ধান কাটার মানুষ নাই, মেশিনও নাই। খুব কষ্টের মধ্যে আছি।
পাগনা হাওরের গঙ্গাধরপুর অংশে ধান কাটছিলেন ওই গ্রামের কৃষক রিপন সরকার। ১৫ বছর পর ধান কাটতে কাঁচি হাতে নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বছর আমরার নিজেরাই ধান কাটন লাগতাছে। বৃষ্টি-বাদলের কারণে মেশিন (ধান কাটার যন্ত্র) ক্ষেতে চলে না, ডাইব্যা (দেবে) যায়। শ্রমিকও কম, ভাই-বান্ধব লইয়া ধান কাটতাছি। এছাড়া তো রক্ষা নাই। এই ধানই আমরার একমাত্র পুঞ্জি।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছোট-বড় ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। আগাম বৃষ্টিপাতে প্রথম ধাপে ১২১ হেক্টর ও দ্বিতীয় ধাপে এক হাজার ২১০ হেক্টরসহ মোট ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৩৩১ হেক্টর বোরো জমির। কিন্তু কৃষক ও হাওর সচেতন মানুষের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়ে অনেক গুণ বেশি। শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটের কারণেও বেকায়দায় পড়েছেন কৃষক, এমন অভিযোগ অহরহ পাওয়া যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জের সাচনা বাজারের (পরিচয়ে অনিচ্ছুক) এক তেল বিক্রেতা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল বিক্রিতে শক্ত সিন্ডিকেট কাজ করছে। যমুনা ওয়েল কোম্পানির লোকজনকে হাত করে দূর-দূরান্তে তেল বিক্রি করা হচ্ছে এখানে। সাচনা বাজারে ডিপো থাকা সত্বেও স্থানীয়রা তেল পাচ্ছে না। এমনকি খুচরা বিক্রেতা হিসেবে এজেন্সিদের কাছে এক ড্রাম ডিজেল চেয়েও পাইনি।
ভর্তুকিতে নেওয়া কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্রের মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হারভেস্টার দিয়ে ঘণ্টায় দুই একর জমি কাটার কথা, কিন্তু পানি থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। পানিতে ধান কাটতে গিয়ে অনেক সময় যন্ত্রও বিকল হচ্ছে। বৈরি আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
সাচনা বাজার যমুনা ওয়েল কোম্পানি লি.-এর ব্যবস্থাপক মো. শাহজালাল জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল ও ডিজেল এজেন্সিদের দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন এই কার্যক্রম দেখভাল করছেন। এখানে তেল কিংবা ডিজেলের কোন সংকট নেই। সিন্ডিকেট সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত হাওরে ৩৭ ভাগ এবং নন হাওরে (হাওরের বাইরে ছোট ছোট অংশ) ৫ ভাগ ধান কর্তন করা হয়েছে। ভর্তুকির আওতায় ৬০২টি এবং ভাড়ায় প্রায় ২৫০টিরও বেশি হারভেস্টার যন্ত্র ধান কাটায় সচল রয়েছে। পাশাপাশি ১ লাখ ১২ হাজারের মতো শ্রমিক ধান কর্তনে অংশ নিয়েছে। হাওরে শ্রমিক, যন্ত্র কিংবা জ্বালানির কোন সংকট নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ২৮ এপ্রিল থেকে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। চেরাপুঞ্জিতেও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ মুহূর্তে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে আগাম বন্যার শঙ্কা রয়েছে। সে জন্য কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।