সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
বোরো ধান কাটার মৌসুম উত্তর-পূর্ব হাওরাঞ্চলে উৎসবের আমেজ। তবে আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের কারণে সংকটের মুখে হাওরাঞ্চলের কৃষি। প্রতিদিনই বৈরী আবহাওয়ায় উৎসবের বদলে কৃষিকে সংকটাপন্ন করে তুলেছে। বর্তমানে হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় নাজুক পরিস্থিতি কৃষকের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য হাওর জেলায় বিভিন্ন এলাকায় আংশিক ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওরের বৈশ্বিক জলবায়ু কৃষিকে মারাত্মক সংকটে ফেলছে জানিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ হাওরাঞ্চলের কৃষি। দেশের খাদ্যের মজুদ ভা-ার। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি অর্থনীতি এবং লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। এ মৌসুমে ফসল কাটার আগে হাওরের কৃষকরা বৈরী আবহাওয়ার সম্মুখীন হচ্ছেন। অতিবৃষ্টি ফসলের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। হাওরের ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। অসময়ে অতিবৃষ্টি ও আদ্রর্তা দুটোই বাড়ছে। তাই, দ্রুত ধান কাটায় সহায়তা করতে সবার সহযোগিতা করা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, দেশের মোট বোরো ধানের প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয় উওর-পূবার্ঞ্চলের হাওর তথা সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তাই এ সময় বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানান। দুই কোটি জনবসতির প্রায় ৪০০ হাওরের ২৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনে ৩০ লাখ কৃষকের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ একর (৯ লাখ ৫৫ হাজার ৬০ হেক্টর)। হাওরের ৮০ শতাংশ লোক কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। এসব এলাকায় ধান কাটার সময় খুবই সীমিত। যে কোনো সময় পাহাড়ি ঢল বা অতিবৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যেতে পারে। এ বছর ইতোমধ্যে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় সেখানে হারভেস্টার ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। সূত্র মতে, কিশোরগঞ্জে এ বছর এক লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর, নেত্রকোনায় এক লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর, সিলেটে ৮০ হাজার ৫০ হেক্টর, কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর, হবিগঞ্জে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় এক লাখ ১১ হাজার ৬৯৫, মৌলভীবাজার জেলায় ৬২ হাজার ৪শ হেক্টর ও সুনামগঞ্জ জেলায় দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেত্রকোনা জেলায় মোট ৭৫০টি হারভেস্টার মেশিন রয়েছে। যার মধ্যে সচল আছে ৬০০টি। বাকিগুলো ব্যবহার অনুপযোগী। ধান কাটার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যন্ত্র সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় দ্রুত ধান কাটতে অন্তত সাড়ে সাত হাজার কম্বাইন হারভেস্টার প্রয়োজন। অথচ সচল রয়েছে মাত্র দুই হাজার ৯৩০টি। প্রায় ৪৪৫টি হারভেস্টার মেরামতের অভাবে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কৃষকরা বলছেন, এসব অচল যন্ত্র দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া গেলে সংকট অনেকটাই কমানো যেত। তবে সে ধরনের কার্যকর উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। কৃষিবিদরা বলছেন, হাওরের ৮০ শতাংশ লোক কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। দেশের মোট চাহিদার বোরো থেকে আসে উৎপাদনের ৬০ শতাংশ আর আমন থেকে আসে ৩০ শতাংশ এবং আউশ থেকে আসে ১০ শতাংশ খাদ্য। কৃষক রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, হাওরের আবহাওয়া অনেক তফাৎ হয়ে গেছে। এই প্রথম জলাবদ্ধ হয়ে পাকা ধান পচে যাচ্ছে। নয়নভাগা দিয়েও ধান কাটাতে পারছি না। কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, তার এমএম ওয়ার্ল্ড কম্বাইন হারভেস্টারটি মেরামতের মধ্যে রয়েছে। খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে সমস্যা হচ্ছে, খরচও বেড়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, পুরো মৌসুমে যন্ত্রটি সচল রাখা যাবে কিনা। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর ধরে কম্বাইন হারভেস্টারসহ কৃষিযন্ত্রে নতুন করে ভর্তুকি দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন যন্ত্র বাজারে আসেনি। পুরনো যন্ত্রের একটি বড় অংশ এখন মেরামতের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে। কৃষিযন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বর্তমানে দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির মাত্র ১৫ শতাংশ হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কাটা হয়। ফলে যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও সরবরাহ সেভাবে বাড়েনি। ডিএইর হিসাব মতে, দেশে কম্বাইন হারভেস্টারের সংখ্যা ১০ হাজার ৭২৬টি। মাড়াই-ঝাড়াই ও অন্যান্য যন্ত্র রয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার ৮০৫টি। বিভিন্ন হাওরের কৃষকেরা জানান, প্রায় প্রতিদিন রাতেই হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হওয়ায় ধান কাটা নিয়ে তারা চিন্তায় আছেন। এমন পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি। বাঁধের ওপারে নদী সেখানেও পানি, আর বাঁধের এপারে ফসলি জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধ হয়েছে। তবে, যেভাবে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে আগাম বন্যা হলে ২০১৭ সালের মতো ফসল রক্ষার বাঁধ ভেঙে হাওরের সব ধান তলিয়ে যাবে। তাই এ বছর ও প্রতিদিনই হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এতে কোথাও কোথাও ফসলরক্ষা বাঁধের ওপর পানির চাপ তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতাও তৈরি হয়েছে। এদিকে পাউবোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সোমেশ্বরী, ধনু, সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ বিভিন্ন নদীর উজান এলাকায় বৃষ্টিপাত বেড়েছে। এতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে এবং আগামী কয়েকদিনে তা বাড়তে পারে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি হাওরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতাও তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে যেসব জমির প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেসব জমির ধান কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের অনুরোধ করা হয়েছে।
বোরো ধান কাটার মৌসুম উত্তর-পূর্ব হাওরাঞ্চলে উৎসবের আমেজ। তবে আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের কারণে সংকটের মুখে হাওরাঞ্চলের কৃষি। প্রতিদিনই বৈরী আবহাওয়ায় উৎসবের বদলে কৃষিকে সংকটাপন্ন করে তুলেছে। বর্তমানে হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় নাজুক পরিস্থিতি কৃষকের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য হাওর জেলায় বিভিন্ন এলাকায় আংশিক ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওরের বৈশ্বিক জলবায়ু কৃষিকে মারাত্মক সংকটে ফেলছে জানিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ হাওরাঞ্চলের কৃষি। দেশের খাদ্যের মজুদ ভা-ার। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি অর্থনীতি এবং লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। এ মৌসুমে ফসল কাটার আগে হাওরের কৃষকরা বৈরী আবহাওয়ার সম্মুখীন হচ্ছেন। অতিবৃষ্টি ফসলের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। হাওরের ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। অসময়ে অতিবৃষ্টি ও আদ্রর্তা দুটোই বাড়ছে। তাই, দ্রুত ধান কাটায় সহায়তা করতে সবার সহযোগিতা করা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, দেশের মোট বোরো ধানের প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয় উওর-পূবার্ঞ্চলের হাওর তথা সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তাই এ সময় বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানান। দুই কোটি জনবসতির প্রায় ৪০০ হাওরের ২৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনে ৩০ লাখ কৃষকের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ একর (৯ লাখ ৫৫ হাজার ৬০ হেক্টর)। হাওরের ৮০ শতাংশ লোক কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। এসব এলাকায় ধান কাটার সময় খুবই সীমিত। যে কোনো সময় পাহাড়ি ঢল বা অতিবৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যেতে পারে। এ বছর ইতোমধ্যে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় সেখানে হারভেস্টার ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। সূত্র মতে, কিশোরগঞ্জে এ বছর এক লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর, নেত্রকোনায় এক লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর, সিলেটে ৮০ হাজার ৫০ হেক্টর, কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর, হবিগঞ্জে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় এক লাখ ১১ হাজার ৬৯৫, মৌলভীবাজার জেলায় ৬২ হাজার ৪শ হেক্টর ও সুনামগঞ্জ জেলায় দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেত্রকোনা জেলায় মোট ৭৫০টি হারভেস্টার মেশিন রয়েছে। যার মধ্যে সচল আছে ৬০০টি। বাকিগুলো ব্যবহার অনুপযোগী। ধান কাটার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যন্ত্র সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় দ্রুত ধান কাটতে অন্তত সাড়ে সাত হাজার কম্বাইন হারভেস্টার প্রয়োজন। অথচ সচল রয়েছে মাত্র দুই হাজার ৯৩০টি। প্রায় ৪৪৫টি হারভেস্টার মেরামতের অভাবে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কৃষকরা বলছেন, এসব অচল যন্ত্র দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া গেলে সংকট অনেকটাই কমানো যেত। তবে সে ধরনের কার্যকর উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। কৃষিবিদরা বলছেন, হাওরের ৮০ শতাংশ লোক কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। দেশের মোট চাহিদার বোরো থেকে আসে উৎপাদনের ৬০ শতাংশ আর আমন থেকে আসে ৩০ শতাংশ এবং আউশ থেকে আসে ১০ শতাংশ খাদ্য। কৃষক রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, হাওরের আবহাওয়া অনেক তফাৎ হয়ে গেছে। এই প্রথম জলাবদ্ধ হয়ে পাকা ধান পচে যাচ্ছে। নয়নভাগা দিয়েও ধান কাটাতে পারছি না। কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, তার এমএম ওয়ার্ল্ড কম্বাইন হারভেস্টারটি মেরামতের মধ্যে রয়েছে। খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে সমস্যা হচ্ছে, খরচও বেড়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, পুরো মৌসুমে যন্ত্রটি সচল রাখা যাবে কিনা। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর ধরে কম্বাইন হারভেস্টারসহ কৃষিযন্ত্রে নতুন করে ভর্তুকি দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন যন্ত্র বাজারে আসেনি। পুরনো যন্ত্রের একটি বড় অংশ এখন মেরামতের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে। কৃষিযন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বর্তমানে দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির মাত্র ১৫ শতাংশ হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কাটা হয়। ফলে যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও সরবরাহ সেভাবে বাড়েনি। ডিএইর হিসাব মতে, দেশে কম্বাইন হারভেস্টারের সংখ্যা ১০ হাজার ৭২৬টি। মাড়াই-ঝাড়াই ও অন্যান্য যন্ত্র রয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার ৮০৫টি। বিভিন্ন হাওরের কৃষকেরা জানান, প্রায় প্রতিদিন রাতেই হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হওয়ায় ধান কাটা নিয়ে তারা চিন্তায় আছেন। এমন পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি। বাঁধের ওপারে নদী সেখানেও পানি, আর বাঁধের এপারে ফসলি জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধ হয়েছে। তবে, যেভাবে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে আগাম বন্যা হলে ২০১৭ সালের মতো ফসল রক্ষার বাঁধ ভেঙে হাওরের সব ধান তলিয়ে যাবে। তাই এ বছর ও প্রতিদিনই হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এতে কোথাও কোথাও ফসলরক্ষা বাঁধের ওপর পানির চাপ তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতাও তৈরি হয়েছে। এদিকে পাউবোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সোমেশ্বরী, ধনু, সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ বিভিন্ন নদীর উজান এলাকায় বৃষ্টিপাত বেড়েছে। এতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে এবং আগামী কয়েকদিনে তা বাড়তে পারে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি হাওরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতাও তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে যেসব জমির প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেসব জমির ধান কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের অনুরোধ করা হয়েছে।