স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের বাউল শিল্পী পাগল হাসানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এ সভায় বক্তারা পাগল হাসানের জীবন, দর্শন, সংগীতচর্চা এবং লোকসংস্কৃতিতে তার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে তার অমূল্য গান ও সৃষ্টিকর্ম রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।
আলোচনা সভার শুরুতে পাগল হাসানের রুহের মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি সাজাউর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের উপদেষ্টা বিজন সেন রায়।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের সাধারণ স¤পাদক অনুপ তালুকদার, কবি আহমদ তালুকদার, শাহ মো. কামরুজ্জামান, শেখ মোশাররফ হোসেন, সুরঞ্জিত গুপ্ত, আলমগীর শাহসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, পাগল হাসান ছিলেন শুধু একজন বাউল শিল্পী নন, তিনি ছিলেন সুনামগঞ্জের মাটি, মানুষ ও মরমী ধারার এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি। তার গান মানুষের হৃদয়ের কথা বলে, সমাজ-জীবন, প্রেম, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতার গভীর বাণী বহন করে। অথচ এমন একজন শিল্পীর গান এখনো যথাযথভাবে সংরক্ষণ কিংবা গবেষণার আওতায় আসেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দেশের লোকজ ও মরমী সংগীতের বহু গুরুত্বপূর্ণ স¤পদ হারিয়ে যাচ্ছে সংরক্ষণের অভাবে। পাগল হাসানের গান সংগ্রহ, স্বরলিপি প্রণয়ন, অডিও-ভিডিও আর্কাইভ নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজন সেন রায় বলেন, তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী ছিলেন পাগল হাসান। ‘আসমানে যাইও না রে বন্ধু’ - গানটি যারা শুনেছেন, তারা পাগল হাসানকে চিনতে পেরেছেন। খুব অল্প সময়ে মানুষের প্রাণের শিল্পী হয়ে ওঠা পাগল হাসান ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল সকালে ছাতক উপজেলার সুরমা সেতু এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর এমন চলে যাওয়া আমরা এখনও মেনে নিতে পারছি না। তাঁর অকাল মৃত্যু আমাদের কাঁদিয়েছে। পাগল হাসানের গান শুধু সুনামগঞ্জের সম্পদ নয়, এটি বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির মূল্যবান ঐতিহ্য। এই গান রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রচারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।