শিক্ষা ক্ষেত্রেও সিলেটকে এগিয়ে নিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

আপলোড সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ১২:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ১২:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: ডলার ও পাউন্ডে এগিয়ে থাকলেই হবে না, শিক্ষার মানেও সিলেটকে এগিয়ে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মন্ত্রী মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনা, প্রতি উপজেলায় মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল নির্মাণ, ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং রিটায়ার্ড শিক্ষকদের নিয়ে ‘শিক্ষক পুল’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরের মেন্দিবাগ অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিলেট শিক্ষাবোর্ড এ মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী সিলেট অঞ্চলে শিক্ষার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রবাসী সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সিলেটে উচ্চ ব্যয়ে পরিচালিত আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে থাকার কারণে শিক্ষার মানে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান কমানো এখন সময়ের দাবি। মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের সাত হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। যে কারণে অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এটি সচল করার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আ ন ম এহছানুল হক বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে চাই। এ জন্য আমরা শিগগিরই কারিগরি শিক্ষার যুগে যাবো। সবাই মিলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। এ থেকে উত্তরণে প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল নির্মাণ করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান নিশ্চিতে বসানো হবে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা। এসব তথ্য জানিয়ে তিনি স্থানীয় সংসদ ও মন্ত্রীদের বিষয়টি মনিটরিং করার সুপারিশ করেন। সারা দেশে বিদ্যমান শিক্ষক স্বল্পতা নিরসনে রিটায়ার্ড শিক্ষকদের পুল গঠন করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা থেকে এটা শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এটি বিস্তৃত করা হবে। স্কুল পরিচালনা কমিটিতে শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সারা দেশে স্কুল-কলেজের বেদখল ভূমি উদ্ধারেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী। সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি করারও অভিমত জানিয়েছেন। আগামীতে প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার বরাদ্দও বাড়ানো হবে বলেও জানান। দেশে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুসংগঠিত নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ধারার অস্তিত্ব থাকলেও তা কোনোভাবেই সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকতে পারে না। বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধানের বাইরে থাকবে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়েছে এবং একটি কার্যকর রেগুলেটরি বোর্ড গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা এবং কো¤পানীগঞ্জের এম সাইফুর রহমান কলেজকে সরকারিকরণের দাবি তোলেন।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com