স্টাফ রিপোর্টার ::
শ্রমিকদের মাসিক বেতন না দিয়ে সুনামগঞ্জের সাআইদৌলা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি মৎস্যপ্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র কোম্পানির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি তেল মজুত করেছে। এতে বেতনের উপর নির্ভরশীল শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। এই কোম্পানিটি প্রতিমাসে ৫ তারিখের পরই নিয়মিত বেতন-ভাতা দিয়ে থাকে। তবে এবার জ্বালানি সংকটের কারণে তেল মজুত করায় দশদিন অতিবাহিত হলেও বেতন দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালিতে অবস্থিত সাআইদৌলা এন্টারপ্রাইজ বিভিন্ন দেশে প্রক্রিয়াজাত মাছ রপ্তানি করে। প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। সম্প্রতি নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করেছেন। শ্রম আইন লঙ্ঘন করে কাজ করানোয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগও করা হয়েছে। এসব ঘটনায় তদন্ত চলছে। এছাড়াও শ্রম আইন লঙ্ঘন করে নারীকর্মীদের রাতে বাধ্য করে কাজ করানো, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিপর্যয়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
তবে ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ নিজেদের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে বেতনের টাকায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত করে রেখেছে বলে শ্রমিকদের অভিযোগ। যে কারণে প্রায় দশদিন অতিবাহিত হলেও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, বৈদ্যুতিক গোলযোগের সময় প্রতিষ্ঠানটি ২৫০ কিলোয়াটের জেনারেটর ব্যবহার করে। যাতে বিপুল জ্বালানি প্রয়োজন হয়।
কোম্পানির কর্মচারী রহিম উদ্দিন বলেন, আমরা কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করায় আমাদেরকে বেআইনিভাবে বহিষ্কার করেছে। এখন শ্রমিকের বেতনের টাকায় বিপুল জ্বালানি মজুত করেছে। এতে বেতনের উপর নির্ভরশীল কর্মচারীরা কষ্টে আছেন। তাদের দৈনন্দিন জীবনে ছন্দপতন ঘটেছে।
কোম্পানির ম্যানেজার অপারেশন মো. শফিকুর রহমান বলেন, কন্টেইনার আটকা পড়ায় কোম্পানির কারো বেতন হয়নি। চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। কাল-পরশু সমাধান হবে। তবে কিছু তেল মজুত করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে সামান্য তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে। তবে এটা বেতনে প্রভাব পড়েনি।