স্টাফ রিপোর্টার ::
দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফকে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টা রুখে দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায় তিন বছর পর বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
জানা যায়, ২০২৩ সালের জুন মাসে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের আন্দোলনের মুখে সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর বুধবার সকালে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগ দিতে এলে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিং এবং দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন এবং অবরুদ্ধ শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার এবং একটি রাজনৈতিক মহলের দাপটে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে রাখা হয়েছে; এমনকি কোনো ভিকটিম লিখিত অভিযোগ করেনি বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার দাস জানান, দীর্ঘ তিন বছর পর ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে এলে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিং জানিয়েছেন, তদন্তাধীন অবস্থায় কাউকে না জানিয়ে ওই শিক্ষক কর্মস্থলে আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।