ছাতক প্রতিনিধি ::
ছাতকে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় দায়েরকৃত মামলায় স্বামী জুবায়ের আহমেদ সাদ্দাম (৪০)কে গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জুবায়ের উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের হাদনালী গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে জুবায়েরের বাসা থেকে স্ত্রী সুবর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মঙ্গলবার নিহত সুবর্ণার মা রাহেলা বেগম বাদী হয়ে মেয়ের জামাই জুবায়ের আহমেদ সাদ্দামকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রুজু করেছেন। সুবর্ণা বেগম চরমহল্লা ইউনিয়নের আব্দুল্লাচর গ্রামের রফিক মিয়ার কন্যা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর পূর্বে সাদ্দাম-সুবর্ণার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। ছাতক বাজারের চৌধুরী ঘাট সংলগ্ন একটি বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন জুবায়ের আহমেদ সাদ্দাম। তাদের পরিবারে বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্যতা থাকায় প্রায় সময়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো।
নিহত সুবর্ণার পরিবারের অভিযোগ, সোমবার রাতে স্বামী জুবায়ের আহমেদ সাদ্দামের নির্যাতনের এক পর্যায়ে মারা যায় সুবর্ণা বেগম। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে বাসা থেকে সুবর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য ওই নারীর মরদেহ একইদিন দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। সুবর্ণার শরীরে আঘাতের অনেক চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনার পর স্বামী জুবায়ের আহমেদ সাদ্দামকে পুলিশ আটক করলেও ওই সময়ে বাসায় তাদের দুই সন্তানকে বাসায় পাওয়া যায়নি।
নিহত সুবর্ণার পিতা রফিক মিয়া জানিয়েছেন, তার মেয়ে সুবর্ণাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। সুবর্ণা বেগমের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানাযাবে।