স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের হাওরের ধান ঘরে তুলতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বোরো ধান কর্তন বিষয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, হাওরের ধান কাটা কোনোভাবেই বিঘিœত হতে দেওয়া যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, ধান কাটা বিঘ্নিত হলে সরাসরি দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সভায় জানানো হয়, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলায় ধান কাটার জন্য ৫৭৭টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন বর্তমানে সচল রয়েছে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে অন্য জেলা থেকে আরও ৫০টি হারভেস্টার নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় আরও ১০৮টি মেরামতযোগ্য মেশিন রয়েছে, যার একটি বড় অংশ দ্রুতই সচল করে মাঠে নামানো সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় হারভেস্টার মালিক ও স্বত্বাধিকারীরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, ধান কাটার ভরা মৌসুমে মেশিন নষ্ট হলে মেকানিক বা সার্ভিস ম্যান পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। পাশাপাশি কো¤পানিগুলো যন্ত্রাংশের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেয়, যা কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া হারভেস্টার কো¤পানি ও প্রতিনিধিদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, চলতি বছরের আবহাওয়া কিছুটা বিরূপ। এই জরুরি সময়ে সেবা প্রদানে অবহেলা করা হলে পুরো ধান কাটার প্রক্রিয়া থমকে যেতে পারে। যন্ত্রাংশের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুততম সময়ে টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব। এটি কেবল ব্যবসায়িক বিষয় নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সাথে জড়িত।
কৃষকদের সুবিধার্থে জ্বালানি তেলের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, মাঠে নিরবচ্ছিন্নভাবে হারভেস্টার চালানোর জন্য দৈনিক অন্তত ১০০ লিটার বা তাঁর আশপাশে ডিজেল বা জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সাথে কথা বলবো।
হাওরের নিচু জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে যেখানে মেশিন চালানো সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হয় সভায়। জেলা প্রশাসক জানান, জলমগ্ন এলাকায় ধান কাটার জন্য যদি শ্রমিকের সংকট দেখা দেয়, তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীলসমাজের প্রতিনিধি ও যুবকদের সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রম বা সহায়তার মাধ্যমে দ্রুত ধান ঘরে তোলার জন্য তাদের সহযোগিতা চাওয়া হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) চাতক চাকমা, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের আহরণ ও ব্যয়ন কর্মকর্তা বি.এম. মুশফিকুর রহমান, এসিআই কোম্পানির প্রতিনিধি মামুন হাছান, আবেদিন ইকুইপমেন্টের প্রতিনিধি আব্দুল মালেক, হারভেস্টার মালিক আজিম উদ্দিন, আতাউর রহমান, মোহাম্মদ আলী, আইনুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকার হারভেস্টার মালিক ও কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।