১৮ গ্রামের কৃষকদের মানববন্ধন

দেখার হাওরের জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের দাবি

আপলোড সময় : ৩১-০৩-২০২৬ ০৮:৩০:১০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৩-২০২৬ ০৮:৩০:১০ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের বোরো জমির জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন হাওরপাড়ের ১৮টি গ্রামের কৃষকরা। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দরিয়াবাজ গ্রামের কাছে দেখার হাওরের উত্তরপাড়ে মানববন্ধন করেন তাঁরা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, দরিয়াবাজের গ্রামের কৃষক হাজী আব্দুল কাদির, সফর আলী, মুক্তার আলী, নুর আহমদ, মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, জেলা শ্রমিক দলের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য রেদুয়ান আলী রায়হান, জগজীবনপুরের কৃষক আমিরুল ইসলাম, কলাউড়া গ্রামের কৃষক মুহিবুর রহমান, আলী হায়দার, শাহাব উদ্দিন, ইছাঘরি গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন, মুজাহিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক আলাউর রহমান, জুয়েল আহমদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, দেখার হাওরের উথারিয়া-পাথারিয়া এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ দেওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি জমে হাওরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অন্তত ১৮টি গ্রামের কৃষকদের শত শত হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একমাত্র বোরো ফসল ধান রক্ষা করতে না পারলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। গরু-ছাগল বিক্রি করে দিতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, উপজেলা, জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকদের সমস্যা সমাধানে একটি স্লুইস গেট নির্মাণে কেউ এগিয়ে আসছে না। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, উথারিয়া-পাথরিয়া বাঁধের নিচে তিনটি পাইপ দিয়ে দেখার হাওরের পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। তবে পানি প্রবাহ কম, কারণ মহাসিং নদীতেও পানি রয়েছে। এখানে একটি স্লুইস গেট করলে কৃষকদের জন্য ভাল হতো কিন্তু জমি জটিলতায় সেটি করা যাচ্ছে না। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ফোনকল রিসিভ করেননি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন। সুনামগঞ্জ -৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন, দেখার হাওরসহ অন্যান্য যেসব হাওরে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশনা হয়েছে। প্রসঙ্গত, দেখার হাওর সুনামগঞ্জের একটি বড় হাওর। এই হাওরে সদর, শান্তিগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ৪৫ হাজার ৮৬৯ হেক্টর জমি রয়েছে। এরমধ্যে চাষাবাদ হয় ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর জমি। এসব জমি থেকে প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়। প্রচলিত আছে, এই ধানে সমস্ত দেশের প্রায় ১৫ দিনের খাদ্যের যোগান হয়। চলতি মৌসুমে উথারিয়া-পাথারিয়া এলাকায় বাঁধের নিচ দিয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কৃষকের কাঁচা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com