‎পাগনার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১১

আপলোড সময় : ২১-০৩-২০২৬ ০৫:৫৮:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৩-২০২৬ ০৬:০৭:১১ অপরাহ্ন
‎স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় পাগনার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওরের পানি নিষ্কাশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। সর্বশেষ গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টিতে ফসলের জমিতে অতিরিক্ত পানি জমার কারনে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে শনিবার সকালে কাশিপুর গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির আলী মেম্বারের নেতৃত্বে গ্রাম থেকে প্রায় ২০/২৫ জন লোকের দলবল নিয়ে শান্তিপুর গ্রামের পাশে থাকা বাঁধটি কাটতে গেলে পাশের গ্রাম শান্তিপুরের লোকজন বাঁধটি কাটতে নিষেধ করেন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এ সময় উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এতে আহত হয়েছেন শান্তিপুর গ্রামের সামিরুল ইসলাম (৩৩), রাফাত হোসেন (১৮) হানিফ মিয়া (৩৫) কিসমত (৩০), বাকি বিল্লাহ (৩৪), নূর মোহাম্মদ (৪০), মাসুদ (৩২), সানেয়ার হোসেন (৪৩), ‎অপরদিকে কাশিপুর গ্রামের আহত হয়েছেন, জসিম উদ্দিন (৩৫), আবুল হোসেন, আবুল কালাম (৩৫)। ‎সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহত কাশিপুর গ্রামের ৩ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ‎

কাশিপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. আমির আলী বলেন, টানা বৃষ্টিপাতে নলচুন্নি হাওরে রোপণ করা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে শান্তিপুর গ্রামের কানাইখালী নদীতে একটি বাঁধ থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পানি নামানোর জন্য তারা বাঁধ কাটতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অন্যদিকে শান্তিপুর গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেন বলেন, পাঠামারা খালের বাঁধ না কেটে শুধুমাত্র কানাইখালী নদীর বাঁধ কাটা হলে শান্তিপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। তিনি জানান, ইউএনও উভয় বাঁধ কাটার নির্দেশ দিলেও একটি বাঁধ রেখে অন্যটি কাটতে আসায় তারা আপত্তি জানান। এতে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ‎
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক পঙ্কজ ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এখনো কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর জানান, পাঠামারা খাল ও কানাইখাল নদীর বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের জন্য উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে উভয় বাঁধটি কেটে পানি নিষ্কাশন করা হবে। কিন্তু পাঠামারা খালের বাঁধ আগে না কেটে কানাইখালীর বাঁধ কাটার জন্য একপক্ষ গেলে অন্যপক্ষ বাঁধা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এবিষয়ে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে। ‎

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com