বিশেষ প্রতিনিধি ::
শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওর উপ-প্রকল্পের ১৪ নং পিআইসিকে স্থানীয়রা ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ হিসেবে চিনেন। তবে কোনও সাইনবোর্ড নেই। কাজও হয়েছে যাচ্ছেতাই। যথাযথভাবে কাজ না হওয়ায় ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের চলাচলেও দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত সোমবার সোমেশ্বরী মেলায় আগত লোকজন চরম দুর্ভোগ সয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ডুমরা আতাউরের বাড়ি থেকে মন্নানপুর পর্যন্ত ১৪ নং প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাদ্দ দেয় প্রায় ২৩ লাখ টাকা। প্রকল্পে সভাপতি হিসেবে সুজিত চন্দ্র দাস ও সেক্রেটারি হিসেবে এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সমন্বয়ক তাপস দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নিয়মানুযায়ী সাইনবোর্ড প্রকাশ্যে টাঙিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও সেটা করেননি পিআইসির লোকজন। সরু আইলের মতো পুরনো সড়কে সামান্য মাটি ফেলে বাঁধটিকে আরো অসুন্দর করা হয়েছে। দুর্মুজ না করায় সামান্য বৃষ্টিতে কাদার কারণে স্থানীয়রা চলাচল করতে পারছেন না। তাছাড়া বাঁধে যথাযথভাবে মাটি ফেলা হয়নি, দুর্মুজ করা হয়নি এবং দুর্বাঘাসও লাগানো হয়নি। যার ফলে পুরো বাঁধটি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। নামমাত্র কাজ করায় বাঁধটি টেকসই হয়নি। তাছাড়া জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রকল্পটি হওয়ায় স্থানীয়দের চলাফেরায়ও দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অনিয়ম হলেও বিষয়টি না দেখার ভান করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, প্রকল্প এলাকার মানুষজন প্রকল্প নিয়ে নানা অনিয়মের কথা আমাদেরকে জানাচ্ছেন। কিন্তু এতে আমরা সংশ্লিষ্ট না থাকায় কোনো জবাব দিতে পারছিনা। এখন চলাচলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। সাধারণ মানুষজন পরিষদকে দোষছেন। অথচ পরিষদ এ ব্যাপারে কিছু জানেনা। এ বিষয়টি আমি এডিসি মহোদয়কে জানিয়েছি।
সমন্বয়ক ও প্রকল্পের সেক্রেটারি তাপস দাসের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঁধ মনিটরিং কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, এই প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ জানিনা। বাঁধের কাজে অনিয়ম হয়েছে কি না জানিনা। তবে প্রকল্পটি মেইন সড়কে হওয়ায় বৃষ্টির কারণে মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে।