মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন::>
অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এই তিনের সমন্বয়ে সুশিক্ষা অর্জন করা সম্ভব। এর যে কোন একটির অবহেলা বা উদাসীনতা বা ঘাটতি থাকলে সুশিক্ষা অর্জন ব্যহত হয়। প্রথমত:- একজন সচেতন অভিভাবক তাঁর সন্তানকে নিয়মিত ঠিক সময়মত স্কুলে পাঠানো ও স্কুল ছুটি হলে বাসায় নেওয়া প্রধান কাজ বা দায়িত্ব। একজন শিক্ষার্থী বাসা থেকে বের হলো স্কুলে যাবে বলে কিন্তু পথের মধ্যে বন্ধু-বান্ধব-বান্ধবী পেয়ে স্কুলে না গিয়ে সে অন্য কোন স্থানে বা রেস্টুরেন্টে আড্ডা বা পার্কে ঘোরাঘুরি করে ঠিক ছুটির সময়ে বাসায় ফিরে গেলো। অভিভাবক জানলেন না বা জানার সুযোগ নেই যে, সন্তান আজ আদৌ স্কুলে গেল কি-না অথবা আজ সে কি লেখাপড়া করেছে। কারণ অনেক অভিভাবক ব্যবসা বা চাকরিতে বা প্রবাসে থাকেন। আবার এমন কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা অমুক স্যারের বাসায় বা অমুক কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে যায়। সেখানেও সমস্যা হয় কারণ কম বয়সের ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়তে গিয়ে কিছু দুষ্টুমি করার সুযোগ খুঁজে নেয়। সপ্তাহে ৩ দিনের মধ্যে ২দিন পড়তে যায় ১দিন হয়তো বা ঘুরতে যায়। ১০% মেধাবী শিক্ষার্থী ছাড়া এই লেখাপড়ার বয়সে প্রাইভেট পড়ার চেয়ে ঘুরতে যাওয়া তাদের কাছে অনেক পছন্দের। এটা অবশ্য সময়ের ব্যাপার, কম বয়সের ছেলে-মেয়েরা পড়ার চেয়ে ঘোরাঘুরি বেশি পছন্দ করে। আবার কোন কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়সের ছেলে-মেয়ের হাতে মোবাইলফোন তুলে দেন। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম বয়সের ছেলে-মেয়ে মোবাইলের ভালো দিকের চেয়ে মন্দ কাজে বেশি ব্যবহার করে। এমন কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিভাবক আমাকে জানিয়েছেন। এই বয়সে মোবাইল হাতে দেওয়া একেবারেই সঠিক না। ইদানীং আমাদের ছাত্রীদের বেলা আরও একটা নতুন সমস্যা হলো নিজেকে লুকিয়ে রেখে ঘোরাঘুরি করা। পর্দা করা আর হিজাব পরা এক বিষয় না, কারণ প্রকৃতপক্ষে পর্দা যারা করে তারা আল্লাহ ভীতি নিয়ে চলে সব সময় নামাজ, কোরআন পড়ে, ইসলামী নিয়ম-কানুন মেনে চলে। এটা খুবই ভালো অভ্যাস। অপরপক্ষে কিছু ছাত্রী আছে, যারা অভিভাবক ও শিক্ষককে ফাঁকি দেওয়ার জন্য হিজাব পরে। অনেকে হিজাব পরে স্কুলে আসে কিন্তু হাট বাজার বা অন্য কোন স্থানে বা অনুষ্ঠানে গেলে হিজাব ছাড়াই যায়। ঘোরাঘুরির বিষয়টি আপনি, আমি, আমরা সবাই কমবেশি রাস্তাঘাটে, একটু রাস্তার আড়ালে, প্রায়ই দেখি যে বোরকা পরা অপ্রাপ্ত বয়সের স্কুলগামী একটি মেয়ে ও অপর একটি ছেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে যাচ্ছে। এমনকি ঘরে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে রাস্তায় বের হয়েই মোবাইলে কথা বলছে। এতে করে কিছুদিন পর ছেলে-মেয়ে আর পড়ার টেবিলে মনোযোগী হতে পারছে না। এই বিষয় থেকে শিক্ষার্থীকে রক্ষা করার জন্য অভিভাবকদের অধিক সতর্ক হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। একটা পরামর্শ হলো ‘সময় জ্ঞান’ অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে বাসা থেকে বেরুনোর সময় ঘড়িতে কয়টা বাজে আর স্কুল ছুটির পর সময়মতো বাসায় আসলো কি না অথবা প্রাইভেট কয়টার সময় শুরু ও কয়টার সময় শেষ এবং পড়া শেষ হলে কতক্ষণ পর বাসায় ফিরল তার তদারকি বা জবাবদিহি করার মাধ্যমে কিছুটা বাজে সময় নষ্ট করা থেকে রক্ষা করতে পারেন। বাসায় লেখা-পড়া করার জন্য একটা সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারেন। এই কাজটাও অভিভাবক এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। এতে বেশী করে ইসলামী নৈতিক শিক্ষা ও ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা পারিবারিক শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব বাড়ানো খুবই দরকার। এই সমাজে বাচ্চাদের ভবিষ্যত নিয়ে আমিও গভীরভাবে চিন্তিত। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার প্রতি সদিচ্ছা থাকতে হবে। লেখাপড়া করার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশে শিক্ষার্থীর মনোযোগ থাকতে হবে। একজন শিক্ষার্থী যখন বুঝতে পারে এই আধুনিক বিশ্বে প্রতিযোগিতার যুগে আমাকে টিকে থাকতে হলে লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষার কোন বিকল্প নেই, তখন সে পাঠে মনোযোগী হবে। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া, শিক্ষকের কথা মেনে নিয়মিত পড়া শিখা, শিক্ষকের ¯েœহ , শাসন মেনে চলা তবেই একজন শিক্ষার্থী সুশিক্ষা অর্জন করতে সক্ষম হবে। তৃতীয়ত, একজন শিক্ষকই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখাতে পারেন। ছেলে মেয়ে মা-বাবার চেয়ে একজন আদর্শ শিক্ষকের কথা বেশি মেনে চলে। তাই একজন শিক্ষক তাকে মোটিভেট করবেন, আদর, ¯েœহের সহিত ভালো মন্দ বুঝাবেন, সঠিক নির্দেশনা দিবেন। যতই দুষ্টুমি করুক না কেন, শিক্ষক ততই বিনয়ী হয়ে শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কৌশলে তাকে সুশিক্ষা অর্জনের জন্য প্রস্তুত করবেন, পাঠে মনোযোগ আকর্ষণ করবেন। এমনটি করতে পারলে একজন শিক্ষার্থী যখন উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে তার স্বপ্ন পূরণ করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বিভিন্ন পেশায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়, তখন সবার আগে তার শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর তখনই উপলব্ধি হয় শিক্ষকতার স্বার্থকতা। পক্ষান্তরে যদি একজন শিক্ষক ১০ মিনিট বিলম্বে ক্লাসে যান বা ক্লাসে পড়ানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলেন অথবা পাঠদানের বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, বিশ্লেষণ করা বা উদাহরণের অভাব থাকে এবং ক্লাসের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ক্লাস থেকে বের হয়ে আসেন তখন শিক্ষকের সম্মান বজায় থাকে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়। তখন শিক্ষক মনে করেন শিক্ষার্থী কথা শুনে না বা সম্মান করতে জানেনা। এমনটি যাতে না হয় এটুকু একজন শিক্ষককে অবশ্যই লক্ষ্য রেখে চলতে হবে। উপসংহারে বলতে চাই- আমি অনেক ছাত্রছাত্রীকে আজও চিনি যারা ১৫/২০/২৫ বছর আগে লেখাপড়া করেছে। যেহেতু আমি গার্লস স্কুলের শিক্ষক সেজন্য ১৫ বছর আগে বা তারও আরো আগে যাদের পড়িয়েছিলাম তাদের মধ্যে অনেকের মেয়েকে এখন ক্লাসে পাই। আমার প্রায় ২৬ বছরের শিক্ষকতায় অসংখ্য ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন উচ্চ পদে কর্মরত, ডাক্তার, আইনজীবী, ব্যাংকার আবার কেউ লন্ডন, আমেরিকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকে বা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। অনেক ছাত্রছাত্রী আমাকে রাস্তাঘাটে পেলে অন্ততপক্ষে সালাম বিনিময় করে, কুশল বিনিময় করে, সম্মান করে, কেউ কেউ দেশ-বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে মোবাইলে ফোন করে খোঁজ-খবর নেয়। এর চেয়ে আর সফলতা কি হতে পারে? এক কথায় এতটুকুই শিক্ষকতার সফলতা ও স্বার্থকতা। আলহামদুলিল্লাহ। পরিশেষে দোয়া করি যে যেখানে থাকুক আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা যেন ছাত্রছাত্রীদের ও তাদের মা-বাবাকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন। আমিন। [মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ]
অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এই তিনের সমন্বয়ে সুশিক্ষা অর্জন করা সম্ভব। এর যে কোন একটির অবহেলা বা উদাসীনতা বা ঘাটতি থাকলে সুশিক্ষা অর্জন ব্যহত হয়। প্রথমত:- একজন সচেতন অভিভাবক তাঁর সন্তানকে নিয়মিত ঠিক সময়মত স্কুলে পাঠানো ও স্কুল ছুটি হলে বাসায় নেওয়া প্রধান কাজ বা দায়িত্ব। একজন শিক্ষার্থী বাসা থেকে বের হলো স্কুলে যাবে বলে কিন্তু পথের মধ্যে বন্ধু-বান্ধব-বান্ধবী পেয়ে স্কুলে না গিয়ে সে অন্য কোন স্থানে বা রেস্টুরেন্টে আড্ডা বা পার্কে ঘোরাঘুরি করে ঠিক ছুটির সময়ে বাসায় ফিরে গেলো। অভিভাবক জানলেন না বা জানার সুযোগ নেই যে, সন্তান আজ আদৌ স্কুলে গেল কি-না অথবা আজ সে কি লেখাপড়া করেছে। কারণ অনেক অভিভাবক ব্যবসা বা চাকরিতে বা প্রবাসে থাকেন। আবার এমন কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা অমুক স্যারের বাসায় বা অমুক কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে যায়। সেখানেও সমস্যা হয় কারণ কম বয়সের ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়তে গিয়ে কিছু দুষ্টুমি করার সুযোগ খুঁজে নেয়। সপ্তাহে ৩ দিনের মধ্যে ২দিন পড়তে যায় ১দিন হয়তো বা ঘুরতে যায়। ১০% মেধাবী শিক্ষার্থী ছাড়া এই লেখাপড়ার বয়সে প্রাইভেট পড়ার চেয়ে ঘুরতে যাওয়া তাদের কাছে অনেক পছন্দের। এটা অবশ্য সময়ের ব্যাপার, কম বয়সের ছেলে-মেয়েরা পড়ার চেয়ে ঘোরাঘুরি বেশি পছন্দ করে। আবার কোন কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়সের ছেলে-মেয়ের হাতে মোবাইলফোন তুলে দেন। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম বয়সের ছেলে-মেয়ে মোবাইলের ভালো দিকের চেয়ে মন্দ কাজে বেশি ব্যবহার করে। এমন কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিভাবক আমাকে জানিয়েছেন। এই বয়সে মোবাইল হাতে দেওয়া একেবারেই সঠিক না। ইদানীং আমাদের ছাত্রীদের বেলা আরও একটা নতুন সমস্যা হলো নিজেকে লুকিয়ে রেখে ঘোরাঘুরি করা। পর্দা করা আর হিজাব পরা এক বিষয় না, কারণ প্রকৃতপক্ষে পর্দা যারা করে তারা আল্লাহ ভীতি নিয়ে চলে সব সময় নামাজ, কোরআন পড়ে, ইসলামী নিয়ম-কানুন মেনে চলে। এটা খুবই ভালো অভ্যাস। অপরপক্ষে কিছু ছাত্রী আছে, যারা অভিভাবক ও শিক্ষককে ফাঁকি দেওয়ার জন্য হিজাব পরে। অনেকে হিজাব পরে স্কুলে আসে কিন্তু হাট বাজার বা অন্য কোন স্থানে বা অনুষ্ঠানে গেলে হিজাব ছাড়াই যায়। ঘোরাঘুরির বিষয়টি আপনি, আমি, আমরা সবাই কমবেশি রাস্তাঘাটে, একটু রাস্তার আড়ালে, প্রায়ই দেখি যে বোরকা পরা অপ্রাপ্ত বয়সের স্কুলগামী একটি মেয়ে ও অপর একটি ছেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে যাচ্ছে। এমনকি ঘরে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে রাস্তায় বের হয়েই মোবাইলে কথা বলছে। এতে করে কিছুদিন পর ছেলে-মেয়ে আর পড়ার টেবিলে মনোযোগী হতে পারছে না। এই বিষয় থেকে শিক্ষার্থীকে রক্ষা করার জন্য অভিভাবকদের অধিক সতর্ক হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। একটা পরামর্শ হলো ‘সময় জ্ঞান’ অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে বাসা থেকে বেরুনোর সময় ঘড়িতে কয়টা বাজে আর স্কুল ছুটির পর সময়মতো বাসায় আসলো কি না অথবা প্রাইভেট কয়টার সময় শুরু ও কয়টার সময় শেষ এবং পড়া শেষ হলে কতক্ষণ পর বাসায় ফিরল তার তদারকি বা জবাবদিহি করার মাধ্যমে কিছুটা বাজে সময় নষ্ট করা থেকে রক্ষা করতে পারেন। বাসায় লেখা-পড়া করার জন্য একটা সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারেন। এই কাজটাও অভিভাবক এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। এতে বেশী করে ইসলামী নৈতিক শিক্ষা ও ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা পারিবারিক শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব বাড়ানো খুবই দরকার। এই সমাজে বাচ্চাদের ভবিষ্যত নিয়ে আমিও গভীরভাবে চিন্তিত। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার প্রতি সদিচ্ছা থাকতে হবে। লেখাপড়া করার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশে শিক্ষার্থীর মনোযোগ থাকতে হবে। একজন শিক্ষার্থী যখন বুঝতে পারে এই আধুনিক বিশ্বে প্রতিযোগিতার যুগে আমাকে টিকে থাকতে হলে লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষার কোন বিকল্প নেই, তখন সে পাঠে মনোযোগী হবে। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া, শিক্ষকের কথা মেনে নিয়মিত পড়া শিখা, শিক্ষকের ¯েœহ , শাসন মেনে চলা তবেই একজন শিক্ষার্থী সুশিক্ষা অর্জন করতে সক্ষম হবে। তৃতীয়ত, একজন শিক্ষকই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখাতে পারেন। ছেলে মেয়ে মা-বাবার চেয়ে একজন আদর্শ শিক্ষকের কথা বেশি মেনে চলে। তাই একজন শিক্ষক তাকে মোটিভেট করবেন, আদর, ¯েœহের সহিত ভালো মন্দ বুঝাবেন, সঠিক নির্দেশনা দিবেন। যতই দুষ্টুমি করুক না কেন, শিক্ষক ততই বিনয়ী হয়ে শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কৌশলে তাকে সুশিক্ষা অর্জনের জন্য প্রস্তুত করবেন, পাঠে মনোযোগ আকর্ষণ করবেন। এমনটি করতে পারলে একজন শিক্ষার্থী যখন উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে তার স্বপ্ন পূরণ করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বিভিন্ন পেশায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়, তখন সবার আগে তার শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর তখনই উপলব্ধি হয় শিক্ষকতার স্বার্থকতা। পক্ষান্তরে যদি একজন শিক্ষক ১০ মিনিট বিলম্বে ক্লাসে যান বা ক্লাসে পড়ানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলেন অথবা পাঠদানের বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, বিশ্লেষণ করা বা উদাহরণের অভাব থাকে এবং ক্লাসের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ক্লাস থেকে বের হয়ে আসেন তখন শিক্ষকের সম্মান বজায় থাকে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়। তখন শিক্ষক মনে করেন শিক্ষার্থী কথা শুনে না বা সম্মান করতে জানেনা। এমনটি যাতে না হয় এটুকু একজন শিক্ষককে অবশ্যই লক্ষ্য রেখে চলতে হবে। উপসংহারে বলতে চাই- আমি অনেক ছাত্রছাত্রীকে আজও চিনি যারা ১৫/২০/২৫ বছর আগে লেখাপড়া করেছে। যেহেতু আমি গার্লস স্কুলের শিক্ষক সেজন্য ১৫ বছর আগে বা তারও আরো আগে যাদের পড়িয়েছিলাম তাদের মধ্যে অনেকের মেয়েকে এখন ক্লাসে পাই। আমার প্রায় ২৬ বছরের শিক্ষকতায় অসংখ্য ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন উচ্চ পদে কর্মরত, ডাক্তার, আইনজীবী, ব্যাংকার আবার কেউ লন্ডন, আমেরিকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকে বা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। অনেক ছাত্রছাত্রী আমাকে রাস্তাঘাটে পেলে অন্ততপক্ষে সালাম বিনিময় করে, কুশল বিনিময় করে, সম্মান করে, কেউ কেউ দেশ-বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে মোবাইলে ফোন করে খোঁজ-খবর নেয়। এর চেয়ে আর সফলতা কি হতে পারে? এক কথায় এতটুকুই শিক্ষকতার সফলতা ও স্বার্থকতা। আলহামদুলিল্লাহ। পরিশেষে দোয়া করি যে যেখানে থাকুক আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা যেন ছাত্রছাত্রীদের ও তাদের মা-বাবাকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন। আমিন। [মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ]