স্টাফ রিপোর্টার ::
ছাতকে আদালতের রায় অমান্য করে জমির সীমানা নির্ধারণের খুঁটি উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে ছাতক পৌরসভার বাগবাড়ি এলাকায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ছাতক উপজেলাধীন ছাতক পৌরসভার বাগবাড়ি মৌজায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত, সুনামগঞ্জে দায়ের করা স্বত্ব (বাটোয়ারা) মামলার রায় ও ডিক্রি অনুযায়ী স¤পত্তির মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রে বাদি মোছা. তামান্না পারভীন ওরফে কামনা বিবি (পিতা: মৃত তালেব আলী) এর অনুকূলে নির্ধারিত হয়। রায় কার্যকরের অংশ হিসেবে একই দিন আদালতের নিযুক্ত টিম সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে স¤পত্তির সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা ও খুঁটি স্থাপন করে এবং বাদির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কাওসার হোসেন অমিতকে দখল বুঝিয়ে দেয়। এ সময় উভয় পক্ষই দখল বুঝে নেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে প্রতিপক্ষরা আদালতের স্থাপিত লাল পতাকা ও সীমানা নির্ধারণের খুঁটি জোরপূর্বক উপড়ে ফেলে দেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন, মনু মিয়া, তারেক মিয়া, সেলিম, ছমিরুন নেছা এবং জহিরুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, আদালতের রায় অমান্য করে এ ধরনের কর্মকা- আইনের শাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার শামিল। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোছা. তামান্না পারভীন ওরফে কামনা বিবি বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের পর আদালতের একটি টিম প্রতিপক্ষের উপস্থিতিতে সরেজমিনে এসে আমার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কাওসার হোসেন অমিতকে জায়গা বুঝিয়ে দেয়। সে সময় সীমানা নির্ধারণ করে পিলার ও লাল পতাকা স্থাপন করা হয় এবং উভয়পক্ষই বিষয়টি মেনে নেন। সীমানা নির্ধারণের সময় কারও কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে শুক্রবার সকালে প্রতিপক্ষরা এসে সীমানা পিলার ও লাল পতাকা উপড়ে ফেলে দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রাপ্ত কাওসার হোসেন অমিত বলেন, সীমানা পিলার উপড়ে ফেলার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত মনু মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছাতক থানার এসআই মো. মনিরুজ্জামান সজল জানান, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সরেজমিনে জায়গা নির্ধারণের সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তবে পরে প্রতিপক্ষ সীমানা পিলার উপড়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।