ছাড়ের অপেক্ষায় আ.লীগ

আপলোড সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ১০:২১:১০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ১০:২১:১০ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিছুটা স্বস্তি দেখছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তবে স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ফিরতে ক্ষমতাসীন দলের ‘রাজনৈতিক ছাড়’-এর অপেক্ষায় রয়েছে দলটি। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই মুহূর্তে অপেক্ষা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ছাড়া অন্য কোনো কৌশল নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। জোর করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার মতো পরিবেশ নেই - এ বাস্তবতা নেতাকর্মীরাও মেনে নিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রত্যাশা : গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যাশা - একটি রাজনৈতিক সরকার অরাজনৈতিক সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে পারে। তবে কবে বা আদৌ তা হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তারা। দলটির একাধিক নেতা জানান, বিএনপি সরকারের মনোভাব ও অবস্থানের ওপরই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রম নির্ভর করছে। সংঘাত এড়িয়ে ‘নিয়মতান্ত্রিক’ পথে ফেরার কৌশল : আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, সহিংসতা বা মুখোমুখি সংঘাতে না গিয়ে ধীরে ধীরে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য কর্মসূচির মধ্যে থাকতে পারে - দিবসভিত্তিক সীমিত কর্মসূচি, দলীয় কার্যালয় খোলা ও নিয়মিত বসা, তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠন, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস ও দল গোছানো। তবে এসবই নির্ভর করছে সরকারের অবস্থানের ওপর। কোনো উসকানিমূলক বা উত্তেজনাপূর্ণ কর্মসূচি আপাতত বিবেচনায় নেই বলে জানিয়েছেন নেতারা। ৫ আগস্টের পর বিপর্যয় : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দলটির সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশছেড়ে ভারতে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এরপর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়; অনেকে গ্রেপ্তার হন, অনেকে আত্মগোপনে যান। বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাস ছিল তাদের জন্য ‘বিপর্যয়কর সময়’।এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলনামূলক অনুকূল মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের পর সীমিত তৎপরতা : নির্বাচনের পর ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় আওয়ামী লীগের কিছু কার্যালয় খোলা হয়েছে। কোথাও কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহীদ দিবসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের মাঝেই রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঝটিকা মিছিল থেকে সাত নেত্রীসহ আটজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা দলটির মধ্যে সতর্কতা বাড়িয়েছে। ফলে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণার আগে পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বিএনপি সরকারের প্রতি ‘সতর্ক ইতিবাচকতা’ : আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের বক্তব্য ও প্রাথমিক পদক্ষেপকে তারা ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছেন। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে - এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। তবে একই সঙ্গে সন্দেহ ও অনিশ্চয়তাও রয়েছে। কার্যালয় খোলা বা সীমিত কর্মসূচির পরও কোথাও কোথাও হামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটায় দ্রুত ছাড় মিলবে - এমন নিশ্চয়তা দেখছেন না নেতারা। অপেক্ষাই এখন কৌশল : দলটির এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাজনৈতিক সরকারের কাছে আমরা রাজনৈতিক আচরণই প্রত্যাশা করি। তবে এখনই কিছু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি বুঝে এগোতে হবে। সব মিলিয়ে, আওয়ামী লীগের বর্তমান কৌশল- সংঘাত এড়িয়ে ধৈর্য ধরা এবং বিএনপি সরকারের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা। স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকা-ে ফিরতে তারা ক্ষমতাসীন দলের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com