জলাশয়ে কীটনাশক ছিটিয়ে পানি ব্যবহারে বাধা : ভোগান্তিতে দুই শতাধিক পরিবার

আপলোড সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ১০:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ১০:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: শাল্লাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন বিশুদ্ধ পানিসংকট চলছে। নলকূপে পানি ওঠছেনা। গ্রামের মানুষজন নদী ও খালের পানি ¯œানসহ কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার করছেন। কিন্তু শাল্লা উপজেলার পোড়ারপাড় গ্রামের গ্রামবাসীর পানিসংকট মিটানোর একমাত্র জলাশয়ে মাছ ধরার জন্য কীটনাশক ছিটিয়ে দিয়েছেন যুবলীগ নেতা দিলীপ রঞ্জন দাস। গ্রামবাসী তাই গোসল, কাপড় ধোয়াসহ দৈনন্দিন কাজে চরম পানিসংকটে ভোগছেন। কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরার কারণে মাছ মরে পানিতে চরম দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী শাল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, পোড়ারপার গ্রামের ৫/৬টি নলকূপ রয়েছে। কিন্তু এখন অধিকাংশ নলকূপেই পানি ওঠছেনা। তাই গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার গ্রামের সরকারি কোরের খাল থেকেই দৈনন্দিন পানির চাহিদা মিটাচ্ছেন। ৩ মার্চ ভোরে যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা দিলীপ দাস ও তার লোকজন গ্রামবাসীর ব্যবহারকৃত খালটিতে মাছ ধরার জন্য কীটনাশক ছিটিয়ে দেয়। এতে মাছের বংশ নির্বংশের পাশাপাশি প্রকৃতি ও স্থানীয় জনজীবনেও প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ কীটনাশক ছড়ানোয় মাছ মরে ভেসে ওঠেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে দিলীপ ও তার লোকজন হুমকি ধমকি দেয়। জানা গেছে, কীটনাশক ছড়ানোর সময় গ্রামের সোহেল তালুকদার, সুমন তালুকদারসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষ করে প্রতিবাদ জানান। তখন দিলীপ তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে থামিয়ে রাখে। পরে গ্রামবাসী বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় এমপিকেও অবগত করেন। প্রত্যক্ষদর্শী সুমন তালুকদার বলেন, আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ নলকূপে এখন পানি ওঠছেনা। তাই আমরা সরকারি কোরের খাল থেকে দৈনন্দিন চাহিদা মিটাচ্ছি। দিলীপ নামের জনৈক ব্যাক্তি আমাদের গ্রামবাসীর পানির একমাত্র প্রাকৃতিক উৎসটি নিষিদ্ধ কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরছে। এতে মাছ মরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমরা এখন চরম পানির সংকটে পড়েছি। গ্রামবাসী মিলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। বাহাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, পোড়ারপাড় গ্রামের অধিকাংশ নলকূপ নষ্ট। এখন পানির লেভেল নিচে চলে যাওয়ায় পানি ওঠছেনা। গ্রাসবাসীর পানির কষ্টে আছে। গ্রামের প্রাকৃতিক পানির উৎস কোরের খালের পানি মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাচ্ছিল। কিন্তু একজন ব্যক্তি সরকারিভাবে নিষিদ্ধ কীটনাশক প্রয়োগ করে মাছ ধরে প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ধ্বংসসহ মানুষকেও দুর্ভোগ দিচ্ছে। গ্রামবাসী আমার কাছে বিচার নিয়ে এসেছিলেন। আমি সরকারের সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com