শান্তিগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৪, ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা

আপলোড সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ০৯:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ০৯:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আসামপুর গ্রামে পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত তৌয়াহিদ মিয়ার ছেলে রাহিম মিয়া (১৩), মেয়ে মিমি বেগম (১২) ও মিজাদ আলীর ছেলে সুয়েব মিয়া (২০) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত রাহিম মিয়া পাগলা বাজারের রাইজিং সান কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ও মিমি বেগম আসামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে তৌয়াহিদ মিয়ার বাড়ির সামনের এজমালি পুকুরে তার প্রতিবেশী শাহীন মিয়া মাছ ধরতে যান। এ সময় শিশু রাহিম মিয়াও পুকুরে মাছ ধরতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে শাহীন মিয়া ও তার সহযোগীরা তৌয়াহিদ মিয়ার বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় ঘরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করা হয় এবং আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় বেলচা দিয়ে রাহিম মিয়ার মাথায় আঘাত করা হলে সে গুরুতর আহত হয়। একই ঘটনায় মিমি বেগম, সুয়েব মিয়াকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘটনার দিন রাতে প্রায় আড়াইটার দিকে হামলার ঘটনা আড়াল করতে এবং নির্যাতিতদের ফাঁসাতে কৌশলে শাহীন মিয়া গং নিজের লাকড়ি রাখার ঘরে আগুন দেন। এতে লাকড়ি ও জ্বালানি জাতীয় দ্রব্য পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বুধবার সরেজমিনে গেলে এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ, আকাশ মিয়া, সেবেদ মিয়া, দিলাল আহমদ, সাইয়িম মিয়া, রোজিনা বেগম, শুভ মিয়া, হুসনেরা বেগম ও খালেদা বেগমসহ আরও অনেকে। হামলার শিকার পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা গ্রামের মুরব্বীদের সিদ্ধান্ত মেনে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে নিজেদের ফাঁসাতে আগুনের ঘটনা সাজানো হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে তারা জানান। এ বিষয়ে শাহীন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কোনো হামলা বা মারামারি করিনি। বরং আমার লাকড়ি ঘরেই আগুন দেওয়া হয়েছে। একই বক্তব্য দেন তার স্ত্রী সেফা বেগম ও মা মনোয়ারা বেগম। হামলার শিকার তৌয়াহিদ মিয়া বলেন, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার ছেলেকে বেলচা দিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। আসামপুর গ্রামের প্রবাসী মাহবুব মিয়া বলেন, যারা শিশুকে নির্যাতন করে পরে নিজের ঘরে আগুন দিয়ে অন্যকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে, তারা সমাজের জন্য হুমকি। এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। গ্রামের সালিশ ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, হামলার পরপরই গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং সমাধানের পরিবেশ তৈরি করেন। তবে রাতে আগুনের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় ৪ মার্চ বুধবার নির্যাতিত তৌয়াহিদ মিয়া বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে সুনামগঞ্জের আদালতে মামলা দায়ের করেন।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com