রমযানে একজন মুমিনের ২৪ ঘণ্টা : কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আদর্শ রুটিন

আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৬ ১১:০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৩-২০২৬ ১১:০৭:৪১ পূর্বাহ্ন
মুফতি হাম্মাদ আহমদ মুহাদ্দিসে গাজিনগরী::>
রমযান মাস মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল এবং আত্মিক প্রশিক্ষণের বিশেষ সময়। এ মাসে মুমিনতার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সুনিয়ন্ত্রিত ও পুণ্যময় করে গড়ে তোলার সুযোগ পায়। কুরআন, হাদিস ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবনধারার আলোকে একজন মুমিনের ২৪ ঘণ্টার একটি আদর্শ রুটিন নিচে তুলে ধরা হলো। ১. ভোর থেকে সকাল: দিনের পবিত্র সূচনা মুমিনের দিন শুরু হয় ফজরের আজান শোনার মাধ্যমে। আজানের উত্তর দেওয়া এবং আজান শেষে দোয়া পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও রাসুল (সা.)-এর সুপারিশ লাভের পথ প্রশস্ত হয়।
* ফজরের সুন্নত ও ফরজ: ফজরের দুই রাকাত সুন্নত দুনিয়া ও এর মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। এরপর মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে ফরজ নামাজ আদায় করা আবশ্যক।
* জিকির ও ইশরাক: ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জায়নামাজে বসে তসবিহ ও তিলাওয়াত করা সুন্নত। সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত ‘ইশরাক্’ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে একটি পূর্ণ হজ ও ওমরার সওয়াব পাওয়া যায়।
* সকালের দান: প্রতিদিন সকালে ফেরেশতারা দানকারীর জন্য বিশেষ দোয়া করেন। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু দান করে দিন শুরু করা উত্তম।
২. দুপুর ও বিকেল: কর্মব্যস্ততায় ইবাদত সংসার বা জীবিকার প্রয়োজনে কাজ করাও ইবাদতের অংশ যদি তা সঠিক নিয়তে হয়।
* হালাল জীবিকা ও জোহর: হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা এবং জোহরের আজান হলে জামাতের সাথে নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নেওয়া।
* পারিবারিক কাজে সহায়তা: রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে ঘরের কাজ ও কাপড় সেলাই করতেন। রমযানে ঘরের কাজে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করা একটি মহৎ সুন্নত।
* দ্বীনি মজলিস ও আসর: বিকেলের সময়টিতে আসরের নামাজের পর কোনো দ্বীনি আলোচনায় অংশ নেওয়া বা তিলাওয়াত করা সওয়াবের কাজ।
৩. সন্ধ্যা: ইফতার ও দোয়ার মুহূর্ত সূর্যাস্তের আগের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
* দোয়া কবুলের সময়: ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল্লাহ বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না। তাই এ সময় নিজের ও উম্মাহর কল্যাণে দোয়া করা উচিত।
* সাদাসিধে ইফতার: জাঁকজমক এড়িয়ে খেজুর বা সাধারণ খাবার দিয়ে সুন্নতি তরিকায় ইফতার করা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো, তেমনি সওয়াবের কাজ। ৪. রাত: তিলাওয়াত ও কিয়ামুল লাইল রমযানের রাতগুলো ইবাদতের আসল সময়।
* এশা ও তারাবিহ: জামাতের সাথে এশা ও তারাবিহর নামাজ আদায় করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত তারাবিহ পড়ে, সে পুরো রাত ইবাদতের সওয়াব পায়।
* পরিবারে দ্বীনচর্চা: রাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে দ্বীনি বিষয়ে কথা বলা বা বড় কোনো আলেমের কিতাব পাঠ করে শোনানো যেতে পারে।
* তাহাজ্জুদ ও সাহরি: শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করা একটি বিশেষ সুযোগ। এরপর বরকতময় সাহরি গ্রহণের মাধ্যমে পরবর্তী দিনের রোজার প্রস্তুতি নিতে হয়। রমযানের এই ২৪ ঘণ্টার রুটিন কেবল একটি তালিকা নয়, বরং এটি একজন মুমিনকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে পরিচালিত করার একটি পথনির্দেশনা। এই রুটিন অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করলে পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি পার্থিব জীবনেও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com