আশিস রহমান::
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নে ‘হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি’র অধীনে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৭০ লাখ টাকার একটি সেচ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বাঁশতলা ও হকনগরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক শতাধিক কৃষক পরিবারের জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও শুরুতেই কাজের মান নিয়ে স্থানীয় উপকারভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে গত দুই দিন ধরে ড্রেনের নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরসিসি ঢালাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই ড্রেনের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং অনেক জায়গায় ঢালাই ফেটে রড বের হয়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢালাইয়ের সময় নিয়ম অনুযায়ী ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার না করায় কংক্রিটের ভেতরে ফাঁপা রয়ে গেছে এবং নির্ধারিত মানের বালুর পরিবর্তে অত্যন্ত নিম্নমানের বিট বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ড্রেনের ওয়াটার লেভেল এবং বেইস ঢালাইয়ে চরম কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্য শাহজাহান মোল্লা বলেন, “শুরু থেকেই ঢালাইয়ের সময় ঠিকমতো পানি দেওয়া হয়নি। রড ও সিমেন্টের ব্যবহারও ছিল অপর্যাপ্ত। ওয়াটার লেভেলও ঠিক রাখা হয়নি।” সমিতির আরেক সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, “যেখানে ২.৫ ইঞ্চি সাইড কভার থাকার কথা, সেখানে অনেক জায়গায় রড বের হয়ে আছে। কাভারিং ঠিকমতো হয়নি।” জুমগাঁও গ্রামের ইছরাক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি ম্যানুয়াল অনুযায়ী কোনো কাজই করা হয়নি।” একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম রবিন বলেন, “বালু, পাথর, সিমেন্ট, রড কোনোটাই পরিমাণ মতো দেওয়া হয়নি। কাজের দুইদিন পরই বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে অথচ এসব দেখার মতো কেউ নেই। সব কাজ ভেঙে আবার নতুন করে কাজ শুরু করার দাবি জানাই।” এ বিষয়ে হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার ভূঁইয়া অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে জানান, “ত্রুটিপূর্ণ কাজের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে এবং প্রকৌশলী সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরিদর্শন না করা পর্যন্ত বর্তমানে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৃষক ও সাধারণ জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি টেকসই ড্রেন নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।” তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার চৌধুরী আহসান পারভেজ। তিনি জানান, “কাজে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের মিস্ত্রী চলে আসায় কাজ বন্ধ আছে। শিঘ্রই আবার কাজ শুরু হবে।” একই ভাষ্য এলজিইডির দোয়ারাবাজার উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, “যারা অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। যারা অভিযোগ করেছে যোগাযোগ করে তাদেরকে কাউকে পাইনি। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। ম্যানুয়াল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।” উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, “আমাদের অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছি। আমি নিজেও সরেজমিনে তদন্ত করতে যাব। যদি কোথায় অনিয়ম পাই তবে রিপেয়ারিং কাজ করানো হবে।”
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নে ‘হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি’র অধীনে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৭০ লাখ টাকার একটি সেচ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বাঁশতলা ও হকনগরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক শতাধিক কৃষক পরিবারের জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও শুরুতেই কাজের মান নিয়ে স্থানীয় উপকারভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে গত দুই দিন ধরে ড্রেনের নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরসিসি ঢালাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই ড্রেনের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং অনেক জায়গায় ঢালাই ফেটে রড বের হয়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢালাইয়ের সময় নিয়ম অনুযায়ী ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার না করায় কংক্রিটের ভেতরে ফাঁপা রয়ে গেছে এবং নির্ধারিত মানের বালুর পরিবর্তে অত্যন্ত নিম্নমানের বিট বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ড্রেনের ওয়াটার লেভেল এবং বেইস ঢালাইয়ে চরম কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্য শাহজাহান মোল্লা বলেন, “শুরু থেকেই ঢালাইয়ের সময় ঠিকমতো পানি দেওয়া হয়নি। রড ও সিমেন্টের ব্যবহারও ছিল অপর্যাপ্ত। ওয়াটার লেভেলও ঠিক রাখা হয়নি।” সমিতির আরেক সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, “যেখানে ২.৫ ইঞ্চি সাইড কভার থাকার কথা, সেখানে অনেক জায়গায় রড বের হয়ে আছে। কাভারিং ঠিকমতো হয়নি।” জুমগাঁও গ্রামের ইছরাক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি ম্যানুয়াল অনুযায়ী কোনো কাজই করা হয়নি।” একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম রবিন বলেন, “বালু, পাথর, সিমেন্ট, রড কোনোটাই পরিমাণ মতো দেওয়া হয়নি। কাজের দুইদিন পরই বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে অথচ এসব দেখার মতো কেউ নেই। সব কাজ ভেঙে আবার নতুন করে কাজ শুরু করার দাবি জানাই।” এ বিষয়ে হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার ভূঁইয়া অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে জানান, “ত্রুটিপূর্ণ কাজের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে এবং প্রকৌশলী সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরিদর্শন না করা পর্যন্ত বর্তমানে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৃষক ও সাধারণ জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি টেকসই ড্রেন নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।” তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার চৌধুরী আহসান পারভেজ। তিনি জানান, “কাজে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের মিস্ত্রী চলে আসায় কাজ বন্ধ আছে। শিঘ্রই আবার কাজ শুরু হবে।” একই ভাষ্য এলজিইডির দোয়ারাবাজার উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, “যারা অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। যারা অভিযোগ করেছে যোগাযোগ করে তাদেরকে কাউকে পাইনি। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। ম্যানুয়াল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।” উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, “আমাদের অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছি। আমি নিজেও সরেজমিনে তদন্ত করতে যাব। যদি কোথায় অনিয়ম পাই তবে রিপেয়ারিং কাজ করানো হবে।”