স্টাফ রিপোর্টার ::
হাওরবেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করলেও চিকিৎসক, জনবল ও ওষুধ সংকটের কারণে অনেক কেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে হতদরিদ্র ও নি¤œআয়ের মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের মাটিয়ান হাওরপাড়ে কাউকান্দি বাজারসংলগ্ন দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এমনই একটি প্রতিষ্ঠান। জনবল না থাকায় এই কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নভিত্তিক এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু থাকাকালে প্রতিদিন বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসা ও ওষুধ পেতেন এলাকার দরিদ্র নারী-পুরুষ, শিশু ও গর্ভবতী মায়েরা। কিন্তু বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকায় প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসাসেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে স্থানীয় ফার্মেসি বা গ্রাম্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন, যা তাদের জন্য ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা, ফার্মাসিস্ট, আয়া ও এমএলএসএসসহ মোট পাঁচটি অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে সবগুলো পদই শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, সরকার মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করেছে, কিন্তু জনবল না থাকায় কোনো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কাউকান্দি গ্রামের বাসিন্দা জরিনা বেগম ও শাকিরা আক্তার জানান, অসুস্থ হয়ে সকালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে সেটি বন্ধ পান। ফলে চিকিৎসাসেবা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শাপলা বেগম বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও প্রায়ই তালা ঝুলতে দেখা যায়। বাধ্য হয়ে কখনো ফার্মেসি, কখনো গ্রাম্য চিকিৎসক, আবার কখনো উপজেলা সদরে যেতে হয়।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নিয়াজুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে একজন ভিজিটর সপ্তাহে একদিন সেবা দিচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জনবল সংকট নিরসন হলে এলাকাবাসী কাক্সিক্ষত সেবা পাবেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক, যাতে হাওরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।