দোয়ারাবাজারে বিষমুক্ত সবজির বাম্পার ফলন

সংরক্ষণের অভাবে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা

আপলোড সময় : ২৮-০২-২০২৬ ১০:২০:৩৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০২-২০২৬ ১০:৩১:৩৪ পূর্বাহ্ন
আশিস রহমান::
দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর, সুরমা, বাংলাবাজার ও দোহালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাসহ বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, কেবল বিষমুক্ত সতেজ সবজির হাতছানি। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শিম, লাউ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচা মরিচ সহ নানা জাতের শীতকালীন সবজির বা¤পার ফলন হয়েছে। সরেজমিনে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুরে কানলার হাওরপাড়ে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে কৃষকদের। কেউ গাছ থেকে টমেটো তুলছেন, কেউ বাঁধাকপি সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ নিবিড়ভাবে করছেন ফসলের পরিচর্যা। কৃষকদের এই কর্মযজ্ঞে পিছিয়ে নেই বাড়ির নারী ও শিশুরাও; পরিবারের সকলে মিলেই হাসি মুখে কাজ করছেন ফসলের মাঠে। তবে ফলন ভালো হলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সবজি সংরক্ষণের অব্যবস্থাপনা। পচনশীল এসব পণ্য দ্রুত বাজারজাত করতে না পারলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকরা আক্ষেপ করে জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুঁজি বিনিয়োগ করে তারা সফলভাবে ফসল উৎপাদন করেও লাভবান হতে পারছেন না। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও কেবল হিমাগারের অভাবে এবং পচনশীল সবজি মজুত করতে না পেরে পানির দরে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সবজি সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে সস্তায় পণ্য ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক সবজি চাষীরা।
কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে যদি সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো কিংবা বাজারজাতকরণে বিশেষ সহায়তা পাওয়া যেত, তবে তারা ন্যায্য মূল্য পেতেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষাবাদে উৎসাহিত হতেন।
সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের সবজি চাষি দ্বীন ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির দাম কমে গেলে আমরা তা ধরে রাখতে পারি না; সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকলে কয়েক দিন পর ভালো দামে বিক্রি করা যেত, কিন্তু এখন পচে যাওয়ার ভয়ে আড়তদারদের দেওয়া নামমাত্র দামেই সব তুলে দিতে হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক জসীম উদ্দিন আক্ষেপ করে জানান, অনেক সময় পরিবহন খরচ না ওঠায় মাঠের সবজি মাঠেই পচে নষ্ট হয়, যা তাদের ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শান্তিপুর গ্রামের আবাদি কৃষক নেতা আব্দুল আওয়াল বলেন, এই অঞ্চলে একটি সরকারি বা বেসরকারি হিমাগার স্থাপন করা গেলে হাওরপাড়ের কৃষি অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসত, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেতেন এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদামাফিক বিষমুক্ত সতেজ সবজির সরবরাহ নিশ্চিত করা যেতো।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ তৌফিক হোসেন খান বলেন, সবজি সংরক্ষণ করতে না পারার কারণে আমাদের প্রান্তিক চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একটি স্থায়ী হিমাগার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করব। এছাড়াও দোয়ারাবাজারে অনেক প্রবাসী উদ্যোক্তা আছেন। তাদেরকে আহবান জানাই আপনারা এলাকায় বিনিয়োগ করে ব্যক্তি উদ্যোগে হিমাগার স্থাপন করলে নিজেরাও লাভবান হতে পারবেন অন্যদিকে এখানে সবজি সংরক্ষণ করে স্থানীয় কৃষকেরাও লাভবান হতে পারবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com