সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
জুলাই জাতীয় সনদ বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক চেয়ে রিট করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এ রিট করেন। পাশাপাশি এর কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদনও করা হয়েছে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন ও নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী করা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে যে আদেশ জারি করা হয়েছে, তাতে এর ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের প্রকাশ।
ওই আদেশে আরও বলা হয়, সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ৬টি কমিশন গঠন করে। তাদের দেওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যমতের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যমত কমিশন গঠন করা হয়। এরপর কমিশন গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংস্কারসহ অন্যান্য সুপারিশ সংবলিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রণয়ন করে।
রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে উক্ত সনদে সাক্ষর ও তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করে। এ সব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য জনগণের অনুমোদন প্রয়োজন এবং সে উদ্দেশ্যে গণভোটের আয়োজন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংবিধান সংস্কার করা বাধ্যতামূলক। এ আদেশ অনুসারে গণভোট স¤পন্ন হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়।
আদেশের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হবে। এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার স¤পন্ন করবে। এটি স¤পন্নের পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। ৮, ৯, ১০ ধারায় শপথ, সভা-প্রধান নির্বাচন ও কোরাম পরিচালনা নিয়ে বলা হয়েছে। ১১ ধারায় দায়মুক্তি এবং ১২ ধারায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে। বিএনপি জুলাই সনদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে।
যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সংসদের নি¤œকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠনে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে। দলটি নি¤œকক্ষে নির্বাচিত সদস্যের হার অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলেছে। দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবে না; এই প্রস্তাবে ভিন্নমত দিয়েছে বিএনপি। পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে বিরোধী দলকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগ কমিটি গঠনের বিরোধিতা করেছে দলটি। এসব কমিশনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের কথাও উল্লেখ করেছে বিএনপি।