সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল

সার্জারি বিভাগে সেবা দিতে চিকিৎসকদের অনীহা

আপলোড সময় : ১৯-০২-২০২৬ ১০:৫৮:০৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০২-২০২৬ ১০:৫৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে চাননা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে তারা নিজেদের মতো মনগড়া রুটিন করে নিয়েছেন। সারাদিন রোগীদের বসিয়ে রেখে শেষে পিয়ন ও আয়া দিয়ে জানিয়ে দেন আজ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি এরকমই ঘটনা ঘটেছে মাইনর সার্জারি সেবা নিতে যাওয়া রোগীদের সঙ্গে।
জানা গেছে, গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে হাতে সামান্য ক্ষত নিয়ে যান একজন সরকারি চাকুরিজীবী। তিনি ছুটি নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। হাসপাতালের আরএমওকে ওই রোগীর স্বজন ফোন করে সহায়তা করার জন্য বললে তিনি সার্জারি বিভাগে সংশ্লিষ্টদেরকে সেবা দেওয়ার কথা বলেন। সকাল ১০টা থেকে সার্জারি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বসিয়ে রেখে জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহির খান ও ডা. সুমিত চিকিৎসা দেবেন। তারা দেখে জানান, মাইনর সার্জারি করতে হবে। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোনও চিকিৎসক না আসায় ওই রোগীর স্বজন ডা. সুমিতকে ফোন দিলে জানান তিনি ছুটিতে আছেন। ডা. জহির চিকিৎসা করবেন। রোগীদেরকে বসে থাকার কথা বলেন তিনি। দুপুর ১টার পর ডা. জাহির সার্জারি বিভাগে এসে একটি অপারেশন করেন। আধা ঘণ্টা পর বেরিয়ে সকাল থেকে অপেক্ষমাণ রোগীদের জানান, আজকে আর অপারেশন হবেনা, চলে যান। সারাদিন বসিয়ে রেখে সেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলার পর ওই রোগীর স্বজন আবারও সার্জারি বিভাগের ডা. সুমিতের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ৬-৭টা অপারেশন করে চিকিৎসক হাঁপিয়ে ওঠেছেন। তিনি ট্রেসে আছেন। আগামীকাল আসেন আমি সার্জারি করে দেব। রোগীদের সকাল থেকে বসিয়ে শেষবেলা এসে কেন সেবা না দিয়ে, মনগড়া অজুহাত দেখিয়ে অমানবিকভাবে বিদায় করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, রোগীদের বসিয়ে রেখে কেন বিদায় করা হলো আমি এটা বলতে পারবনা। এরপর ওই রোগীর স্বজন আবারও আরএমও ডা. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি ডা. নিরুপম নামের একজনকে ওই রোগীর চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দেন। ডা. নিরুপমের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি মর্নিং শিফটে ছিলেন। ডা. অর্কের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন। এভাবে রোগীকে বেলা প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত চক্কর দেওয়ার পর রোগীর স্বজন আবারও আরএমও’র সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জরুরি বিভাগের আউটসোর্সিংয়ে কাজ করা এক কর্মীকে বলার পর তিনি ওই রোগীর মাইনর সার্জারি করে দেন। কিন্তু সকাল থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীকে সেবা না দিয়ে দুর্ভোগের চক্কর দেওয়ান। প্রতিদিনই এভাবে মাইনর সার্জারি করতে যাওয়া রোগীদের সেবা না দিয়ে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ডা. জাহির বলেন, আমি একটি জটিল অপারেশন করেছি। পরে যারা ছিল তাদেরকে আগামীকাল আসতে বলেছি। একজন সরকারি চাকুরিজীবী ছুটি নিয়ে সারাদিন বসে থাকার পর এমন আচরণ কতটুকু সঠিক হলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি। আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমিতো সকালেই বলে দিয়েছিলাম। না করতে পারলেতো ওই সময়ই বলা উচিত ছিল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অনেক সময় কথা শুনেন না বলে স্বীকার করেন তিনি।
এদিকে ভুক্তভোগী একাধিক রোগী জানান, সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা হাসপাতালের বদলে বাইরে সার্জারি করতে পছন্দ করেন। এ কারণে রোগীদের নানা অজুহাতে সারাদিন বসিয়ে রেখে বিদায় করেন। পরে বাধ্য হয়ে অনেক রোগী বাইরে মাইনর অপারেশন করান।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com