সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল

খাদ্য সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ

আপলোড সময় : ১৯-০২-২০২৬ ১০:৫১:৫৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০২-২০২৬ ১০:৫৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ::
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে খাদ্যপণ্য সররাহের জন্য নিয়মবর্হিভূতভাবে নিজের মনোনীত একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্বে নিয়োগকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সামিয়া এন্টারপ্রাইজকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহের জন্য বলা হলেও ১০ দিন পূর্বে কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে খাদ্য সরবরাহের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জানাযায়, হাসপাতালের খাদ্য পণ্য সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অভিযোগ এনে সামিয়া এন্টারপ্রাইজকে কর্তৃক রিট পিটিশন নং -২৭২/২০২৬ দায়ের এর প্রেক্ষিতে বিগত ১১ জানুয়ারি মহামান্য হাইকোট কর্তৃক রুল জারী এবং আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সামিয়া এন্টারপ্রাইজকে সরবরাহ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। যা সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কর্তৃক পত্রের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়কে নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়।
এদিকে সামিয়া এন্টারপ্রাইজ খাদ্য সরবরাহ দরপত্রের নানা অনিয়ম নিয়ে আরেকটি রিট দায়ের করে যার নং- ৬৩৬/২০২৬। সেই রিটের শুনানী শেষে মহামান্য হাইকোর্ট রুল নিশি জারী এবং উক্ত দরপত্র কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন।
পরে মামলার বাদী নিজে ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান উক্ত স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আপিল করেন। আপিলে চেম্বার বিচারপতি স্থগিতাদেশ ওভার স্টে করেন। পরবর্তীতে সামিয়া এন্টারপ্রাইজ কর্তৃক ফুল কোর্ট শুনানির জন্য চেম্বার জজের আদেশটি ভেকেট করেন। আদালত সেটি গ্রহণ করলেও তড়িঘড়ি স্থগিতাদেশ উঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ প্রদান করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহমুদুর রহমান। সামিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু হোসেন বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম করেছেন তত্ত্বাবধায়ক। তিনি ইজিপিতে অদ্ভুত সময় বেধে দিয়েছেন। তার অভিনব কৌশলের কারণে আমার মতো অনেকেই সিডিউল কিনেও জমা দিতে পারেননি। তিনি ইজিপিতে ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শেষ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। যা হওয়ার কথা ছিল ব্যাংক ঘণ্টা পর্যন্ত। তিনি সূক্ষ্ম কারচুপি করেছেন। এ ব্যাপারে আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
এছাড়াও আদালতের রায় অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সামিয়া এন্টারপ্রাইজ খাদ্য সরবরাহ করার কথা কিন্তু ১০ তারিখ এই প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক বের করে দিয়েছেন। রাতারাতি কার্যাদেশ দিয়েছেন অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে।
এদিকে ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের খাদ্য সরবরাহ করছে কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। খাবার বিতরণের দৃশ্য ধারণ করলে বাধা দেন সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের লোকেরা। আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও নতুন আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ করার ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে এ ব্যাপারে অফিসিয়াল কোনো চিঠি আসেনি। এটি আদালতের রায় কিনা কি করে বুঝবো? নতুন করে যে প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়েছে তাদেরকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
খাদ্য সরবরাহের ব্যাপারে কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্থানীয় প্রতিনিধি নুরুল হক বলেন, আমরা কার্যাদেশ অনুযায়ী হাসপাতালে খাদ্য সরবরাহ করছি। আদালতের নির্দেশনার ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিষয়।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com