জগন্নাথপুর প্রতিনিধি ::
জগন্নাথপুরে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের নামে কুশিয়ারা নদীর তীর কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। অবাধে বাড়ি বাড়ি নিয়ে মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বাঁধের নামে মাটি বিক্রির ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। তা দেখার যেন কেউ নেই। ঘটনাটি ঘটেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের অলইতলি গ্রাম এলাকায়। এ অঞ্চলে ২৩নং প্রকল্পের আওতায় খ- খ- বাঁধের কাজ পান পাইলগাঁও ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নজমুদ্দীন।
গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, অলইতলি গ্রাম এলাকায় অবস্থিত কুশিয়ারা নদী তীরের মাটি এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে কেটে ডামট্রাক দিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেশিনের চালকসহ অন্যরা বলেন, আমরা সরকারি বেড়িবাঁধের জন্য মাটি কাটছি। কিছুক্ষণ পরে দেখা যায়, এসব ডামট্রাকের মাটি অলইতলি গ্রামের মহিম খাঁ’র বসতবাড়িতে ফেলা হচ্ছে। এটা কি বেড়িবাঁধ এমন প্রশ্নের জবাব দেননি ডামট্রাকের চালক।
পরে গ্রামের অনেকের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, অনেক আগ থেকেই বেড়িবাঁধের নামে নদীপাড় কেটে মাটি এনে মানুষের বাড়ি বাড়ি নিয়ে বিক্রির ব্যবসা চলছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে কথা হয় ২৩নং প্রকল্প সভাপতি ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নজমুদ্দীনের সাথে। তিনি বলেন, বাঁধে গিয়ে কাজ দেখুন। পরে নদী কেটে মাটি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বাঁধের মাটি বিক্রির বিষয়টি আমি জানি না। তা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলা কর্মকর্তা শেখ ফরিদ জানান, সরেজমিনে দেখে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল জানান, নদীর তীর কেটে মাটি বিক্রি বন্ধ করতে হবে। আমরা এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।