স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলিও করেছেন। তাদের কর্মী-সমর্থকরাও ছিলেন শান্তশিষ্ট। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের ভিড় লক্ষ করা যায়নি। তবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কোনও ভোটার নেই। তবে আনসার, পুলিশ বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। এজেন্টরা ঘোরাঘুরি করছেন। প্রিসাইডিং অফিসার জানালেন, এখন পর্যন্ত কোনও ভোটার আসেননি।
সকাল ৮টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় আনসার, পুলিশ মাঠে আছে। পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসার নিজ নিজ কক্ষে। এজেন্টরা নানা বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। তবে ১-২ জন করে পুরুষ ভোটাররা ভোট দিচ্ছিলেন। এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কাওসার আলম শাহ বলেন, সাড়ে ৭টাতেই আমরা ৯টি বুথে একটি করে বই পাঠিয়েছি। একজন দুইজন করে ভোট দিচ্ছেন। এজেন্টরাও দায়িত্ব পালন করছেন শান্তিপূর্ণভাবে।
সকাল ১০টা ৫ মিনিটে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নারীদের মাঝারি ভিড়ের একটি লাইন। কক্ষের ভেতরেও ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। ২ হাজার ৫৪২ ভোটারের এই ভোট কেন্দ্রে ৬টা বুথ।
প্রিসাইডিং অফিসার মনিরুজ্জামান জানালেন, শুরু থেকেই নারীদের কিছু ভিড় আছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এই কেন্দ্রটি বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুলের এলাকায় হলেও প্রভাবমুক্তই নির্বাচন হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরিনের নিজের ভোট কেন্দ্র তেঘরিয়া দারুস হাদিস মাদরাসায় সকাল ১১টায় গিয়ে দেখা যায়, আনসার ও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে বাইরে। ভিতরে গিয়ে দেখা গেল প্রিসাইডিং অফিসার সৈয়দ সাহলান আহমদ একটি বুথে পোলিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলছেন। এজেন্টদেরও নিয়ম মেনে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি জানান, ভোটার উপস্থিতি কম। তখন পর্যন্ত একটি বই বিতরণ করা হয়েছে হয়েছে বলে জানান।
এই কেন্দ্রে বিকেল ৪.২০ মিনিটে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্র ফাঁকা। আনসার সদস্য হ্যান্ড মাইক দিয়ে ভোটারদের সাড়ে ৪টার মধ্যে ভিতরে প্রবেশের আহ্বান জানাচ্ছেন। এই সময়ের মধ্যে না প্রবেশ করলে ভোট দেওয়া যাবেনা বলেও ঘোষণা দিচ্ছিলেন তিনি।
এদিকে ভোট শেষে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের আমপাড়া ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বরত বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুলের এজেন্টদের বের করে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর পক্ষে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার দুইটি বইয়ে সিল মারছেন এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক জামাল উদ্দিন বাকের।
এ বিষয়ে নির্বাচনে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পাল বলেন, এরকম একটি অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি। এ বিষয়টি গভীরভাবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো সমাধান হয়নি। এর বেশি কিছু এখন বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।