মযহারুল ইসলাম বাবলা::
মানুষের সহজাত স্বাভাবিক জীবনাচারে প্রধান সমস্যা যে শ্রেণিবৈষম্য, এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। আদিম সাম্যবাদী সমাজের পরিসমাপ্তির পর অর্থাৎ ব্যক্তিগত স¤পদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরপরই শ্রেণি বিভাজনের সূত্রপাত ঘটে। ক্রমান্বয়ে দাস যুগ, সামন্ত যুগ এবং বুর্জোয়া যুগের আগমনে মানুষের জীবনে পর্যায়ক্রমে নানামুখী ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে কিন্তু শ্রেণি-বৈষম্য, বিভাজন নির্মূল হয়নি। বরং শ্রেণিবৈষম্য আরও প্রবল ও ব্যাপকতা লাভ করেছিল। বুর্জোয়া ব্যবস্থাধীনে আজও শ্রেণিবৈষম্য নিরসন হয়নি, বহাল রয়েছে। ১৯১৭ সালে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শ্রেণিসমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারকে পরাভূত করা কোনো পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব হয়নি। হয়েছিল কমরেড যোসেফ স্ট্যালিনের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার বলশেভিক যোদ্ধাদের বীরত্বে-আত্মত্যাগে। যুদ্ধ-পরবর্তী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন সাড়া ফেলেছিল বিশ্বজুড়ে। পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে এবং চীনে বিপ্লব সম্পন্ন হওয়ার পর পুঁজিবাদী বিশ্ব সমাজতন্ত্রের পতনে ভেতর-বাইরে থেকে প্রবল চেষ্টা চালায়। শক্তিশালী পশ্চিমা গণমাধ্যম ব্যাপক প্রচারণা চালায়। স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর সে চেষ্টা ভেতরে ভেতরে সংক্রমণ ব্যাধির মতো ঢুকে পড়ে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোয়। গত শতাব্দীর শেষ ভাগে অনেক সমাজতান্ত্রিক দেশ মতাদর্শিক অবস্থান ত্যাগ করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ফিরে যায়। ফলে শ্রেণিশোষণ আবার ওইসব দেশে প্রবল বেগে ফিরে আসে। আমাদের শ্রেণিবিভক্ত সমাজে মানুষের সহজাত স্বাভাবিক সম্পর্কগুলো নির্ধারিত হয় শ্রেণির মাপকাঠিতে। সমানে সমান না হলে কোনো সম্পর্কই টিকতে পারে না। সেটা নিকট-আত্মীয় হোক কিংবা স্বজনই হোক। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্প্রতি শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গিতেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। নিকট-আত্মীয় দূরবর্তী এবং অনাত্মীয় নিকটবর্তী হয়ে পড়ে শ্রেণিগত অবস্থানের কারণে। শ্রেণিবৈষম্য আমাদের সামষ্টিক জীবনের ঐক্য-সংহতির প্রধান অন্তরায়। শ্রেণিবৈষম্যের নিরসন ছাড়া আমাদের সামগ্রিক জীবনাচারে পারস্পরিক সম্পর্ক-সম্প্রীতি, ঐক্য-সংহতি গড়ে উঠতে পারবে না। আত্মকেন্দ্রিকতা আমাদের পররকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং অসামাজিক ও আত্মকেন্দ্রিক প্রাণীতে পরিণত করে তুলেছে। সঙ্গত কারণেই শ্রেণিবিভক্তি, বৈষম্যকে আমাদের সামাজিক, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার জন্য অনায়াসে চিহ্নিত করা যায়। সংস্কৃতিও শ্রেণিনিরপেক্ষ নয়। সংস্কৃতির ওপর শ্রেণির প্রভাব অস্বীকার করা যাবে না। কোনো মানুষই সংস্কৃতিবিহীন নয়। সবার পক্ষে শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয় না সত্য কিন্তু সংস্কৃতিবিহীন কেউ নয়। সে বিবেচনায় সংস্কৃতি শিক্ষার চেয়েও অগ্রবর্তী। একটি জাতির অভিন্ন সংস্কৃতি গড়ে না ওঠার প্রধান অন্তরায় শ্রেণিবৈষম্য। শ্রেণি বিভাজনে সংস্কৃতিও শ্রেণিভেদে বিভাজিত। ধনী-দরিদ্র, শহর-গ্রাম বিভাজনে সংস্কৃতির বিভাজন দৃশ্যমান। পাশাপাশি শহরে ও গ্রামে বসবাসকারী মানুষের শ্রেণি-অবস্থানের কারণে সংস্কৃতিও বিভাজিত। সংস্কৃতি স্থির অনড় কোনো বিষয় নয়। সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে অর্থনৈতিক কারণে। বিশ্বায়নের এই যুগে সংস্কৃতির ওপর নানা ধরনের এবং উপায়ে আগ্রাসন অব্যাহত গতিতে চলছে। বিজাতীয় উগ্র-স্থূল সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে, বিশ্বায়নের আগ্রাসনে এবং আমাদের বিত্তবান শ্রেণির হাত ধরে। ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, ক্যাবল টিভির মাধ্যমেও অপসংস্কৃতি ঢুকে পড়েছে ঘরে ঘরে, ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে। এর ফলে সংস্কৃতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাবে, সংস্কৃতিকে বিকৃত এবং বিপদাপন্ন করে তুলেছে। সংস্কৃতি এবং জাতীয়তার প্রধান উপাদান হচ্ছে ভাষা। ভাষা আমাদের পারস্পরিক নিকটবর্তী হওয়ার প্রধান মাধ্যম। অভিন্ন ভাষা যেমন আমাদের নিকটবর্তী করে, তেমনি শ্রেণি প্রশ্নে দূরবর্তীও করে দেয়। একই জাতিসত্তার মানুষের মধ্যে শ্রেণিভেদে সংস্কৃতি বিভাজিত। তেমনি ভাষার ক্ষেত্রেও দেখা যায় ভিন্নতা। আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষাও রয়েছে। কথার উচ্চারণেও ধরা পড়ে ব্যক্তির আঞ্চলিক অবস্থানটি। বিশুদ্ধ পরিশীলিত ভাষা দিয়ে যেমন শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত নির্ধারণ করা হয়, তেমনি শ্রেণিগত ভিন্নতারও প্রমাণ পাওয়া যায় ভাষার ব্যবহারে। আমাদের স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রান্তে মানুষ কেবল ত্যাগ-আত্মত্যাগই করেছে, তাদের কাক্সিক্ষত স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আমাদের জাতীয়তাবাদী দুই ধারা ভাষিক-জাতীয়তাবাদী এবং ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদীরা প্রায় এক কাতারে মিলে যায় কখনও কখনও। তাদের মধ্যকার বিরোধ আদর্শিক বলা যাবে না। উভয়ে পুঁজিবাদী মতাদর্শী এবং রাজনীতিতে ধর্মযোগ তাদের কাছে আদর্শবিরোধী নয়। জাতীয়তাবাদী দুইধারার দ্বন্দ্ব যে নেই তা নয়। সেটা মতাদর্শিক নয়, পক্ষে-বিপক্ষে না থাকার ফলেই বিরোধ ঘটে। আবার দ্রুত মীমাংসাও হয়ে যায়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কতিপয় পাকিস্তানপন্থি বাদে; অমন ঐক্য আর দ্বিতীয়বার দেখা যায়নি। স্বাধীনতার পরপরই ওই ঐক্য ভেঙে খ--বিখ- হয়ে যায়। জাতীয়তাবাদী ও সামরিক শাসনের ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতায় অনায়াসে বলা যায়, আমাদের ভূখ- দুবার স্বাধীন হয়েছে, ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদে এবং ভাষিক-জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। কিন্তু কোনো জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা আমাদের স্বাধীন করেনি। দেয়নি মুক্তিও। তাই মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটেছে সেটা স¤পূর্ণ সত্য নয়। আংশিক সত্য। মুক্তির সংগ্রাম চলছে এবং চলবে। মুক্তির জন্য শ্রেণিবৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সমতার সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশপ্রেমিকদের ভূমিকা পালন করে যেতে হবে। এই কথাটি যেন আমরা ভুলে না যাই। [সংকলিত] মযহারুল ইসলাম বাবলা : নির্বাহী স¤পাদক, নতুন দিগন্ত
মানুষের সহজাত স্বাভাবিক জীবনাচারে প্রধান সমস্যা যে শ্রেণিবৈষম্য, এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। আদিম সাম্যবাদী সমাজের পরিসমাপ্তির পর অর্থাৎ ব্যক্তিগত স¤পদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরপরই শ্রেণি বিভাজনের সূত্রপাত ঘটে। ক্রমান্বয়ে দাস যুগ, সামন্ত যুগ এবং বুর্জোয়া যুগের আগমনে মানুষের জীবনে পর্যায়ক্রমে নানামুখী ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে কিন্তু শ্রেণি-বৈষম্য, বিভাজন নির্মূল হয়নি। বরং শ্রেণিবৈষম্য আরও প্রবল ও ব্যাপকতা লাভ করেছিল। বুর্জোয়া ব্যবস্থাধীনে আজও শ্রেণিবৈষম্য নিরসন হয়নি, বহাল রয়েছে। ১৯১৭ সালে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শ্রেণিসমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারকে পরাভূত করা কোনো পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব হয়নি। হয়েছিল কমরেড যোসেফ স্ট্যালিনের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার বলশেভিক যোদ্ধাদের বীরত্বে-আত্মত্যাগে। যুদ্ধ-পরবর্তী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন সাড়া ফেলেছিল বিশ্বজুড়ে। পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে এবং চীনে বিপ্লব সম্পন্ন হওয়ার পর পুঁজিবাদী বিশ্ব সমাজতন্ত্রের পতনে ভেতর-বাইরে থেকে প্রবল চেষ্টা চালায়। শক্তিশালী পশ্চিমা গণমাধ্যম ব্যাপক প্রচারণা চালায়। স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর সে চেষ্টা ভেতরে ভেতরে সংক্রমণ ব্যাধির মতো ঢুকে পড়ে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোয়। গত শতাব্দীর শেষ ভাগে অনেক সমাজতান্ত্রিক দেশ মতাদর্শিক অবস্থান ত্যাগ করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ফিরে যায়। ফলে শ্রেণিশোষণ আবার ওইসব দেশে প্রবল বেগে ফিরে আসে। আমাদের শ্রেণিবিভক্ত সমাজে মানুষের সহজাত স্বাভাবিক সম্পর্কগুলো নির্ধারিত হয় শ্রেণির মাপকাঠিতে। সমানে সমান না হলে কোনো সম্পর্কই টিকতে পারে না। সেটা নিকট-আত্মীয় হোক কিংবা স্বজনই হোক। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্প্রতি শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গিতেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। নিকট-আত্মীয় দূরবর্তী এবং অনাত্মীয় নিকটবর্তী হয়ে পড়ে শ্রেণিগত অবস্থানের কারণে। শ্রেণিবৈষম্য আমাদের সামষ্টিক জীবনের ঐক্য-সংহতির প্রধান অন্তরায়। শ্রেণিবৈষম্যের নিরসন ছাড়া আমাদের সামগ্রিক জীবনাচারে পারস্পরিক সম্পর্ক-সম্প্রীতি, ঐক্য-সংহতি গড়ে উঠতে পারবে না। আত্মকেন্দ্রিকতা আমাদের পররকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং অসামাজিক ও আত্মকেন্দ্রিক প্রাণীতে পরিণত করে তুলেছে। সঙ্গত কারণেই শ্রেণিবিভক্তি, বৈষম্যকে আমাদের সামাজিক, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার জন্য অনায়াসে চিহ্নিত করা যায়। সংস্কৃতিও শ্রেণিনিরপেক্ষ নয়। সংস্কৃতির ওপর শ্রেণির প্রভাব অস্বীকার করা যাবে না। কোনো মানুষই সংস্কৃতিবিহীন নয়। সবার পক্ষে শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয় না সত্য কিন্তু সংস্কৃতিবিহীন কেউ নয়। সে বিবেচনায় সংস্কৃতি শিক্ষার চেয়েও অগ্রবর্তী। একটি জাতির অভিন্ন সংস্কৃতি গড়ে না ওঠার প্রধান অন্তরায় শ্রেণিবৈষম্য। শ্রেণি বিভাজনে সংস্কৃতিও শ্রেণিভেদে বিভাজিত। ধনী-দরিদ্র, শহর-গ্রাম বিভাজনে সংস্কৃতির বিভাজন দৃশ্যমান। পাশাপাশি শহরে ও গ্রামে বসবাসকারী মানুষের শ্রেণি-অবস্থানের কারণে সংস্কৃতিও বিভাজিত। সংস্কৃতি স্থির অনড় কোনো বিষয় নয়। সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে অর্থনৈতিক কারণে। বিশ্বায়নের এই যুগে সংস্কৃতির ওপর নানা ধরনের এবং উপায়ে আগ্রাসন অব্যাহত গতিতে চলছে। বিজাতীয় উগ্র-স্থূল সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে, বিশ্বায়নের আগ্রাসনে এবং আমাদের বিত্তবান শ্রেণির হাত ধরে। ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, ক্যাবল টিভির মাধ্যমেও অপসংস্কৃতি ঢুকে পড়েছে ঘরে ঘরে, ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে। এর ফলে সংস্কৃতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাবে, সংস্কৃতিকে বিকৃত এবং বিপদাপন্ন করে তুলেছে। সংস্কৃতি এবং জাতীয়তার প্রধান উপাদান হচ্ছে ভাষা। ভাষা আমাদের পারস্পরিক নিকটবর্তী হওয়ার প্রধান মাধ্যম। অভিন্ন ভাষা যেমন আমাদের নিকটবর্তী করে, তেমনি শ্রেণি প্রশ্নে দূরবর্তীও করে দেয়। একই জাতিসত্তার মানুষের মধ্যে শ্রেণিভেদে সংস্কৃতি বিভাজিত। তেমনি ভাষার ক্ষেত্রেও দেখা যায় ভিন্নতা। আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষাও রয়েছে। কথার উচ্চারণেও ধরা পড়ে ব্যক্তির আঞ্চলিক অবস্থানটি। বিশুদ্ধ পরিশীলিত ভাষা দিয়ে যেমন শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত নির্ধারণ করা হয়, তেমনি শ্রেণিগত ভিন্নতারও প্রমাণ পাওয়া যায় ভাষার ব্যবহারে। আমাদের স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রান্তে মানুষ কেবল ত্যাগ-আত্মত্যাগই করেছে, তাদের কাক্সিক্ষত স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আমাদের জাতীয়তাবাদী দুই ধারা ভাষিক-জাতীয়তাবাদী এবং ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদীরা প্রায় এক কাতারে মিলে যায় কখনও কখনও। তাদের মধ্যকার বিরোধ আদর্শিক বলা যাবে না। উভয়ে পুঁজিবাদী মতাদর্শী এবং রাজনীতিতে ধর্মযোগ তাদের কাছে আদর্শবিরোধী নয়। জাতীয়তাবাদী দুইধারার দ্বন্দ্ব যে নেই তা নয়। সেটা মতাদর্শিক নয়, পক্ষে-বিপক্ষে না থাকার ফলেই বিরোধ ঘটে। আবার দ্রুত মীমাংসাও হয়ে যায়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কতিপয় পাকিস্তানপন্থি বাদে; অমন ঐক্য আর দ্বিতীয়বার দেখা যায়নি। স্বাধীনতার পরপরই ওই ঐক্য ভেঙে খ--বিখ- হয়ে যায়। জাতীয়তাবাদী ও সামরিক শাসনের ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতায় অনায়াসে বলা যায়, আমাদের ভূখ- দুবার স্বাধীন হয়েছে, ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদে এবং ভাষিক-জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। কিন্তু কোনো জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা আমাদের স্বাধীন করেনি। দেয়নি মুক্তিও। তাই মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটেছে সেটা স¤পূর্ণ সত্য নয়। আংশিক সত্য। মুক্তির সংগ্রাম চলছে এবং চলবে। মুক্তির জন্য শ্রেণিবৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সমতার সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশপ্রেমিকদের ভূমিকা পালন করে যেতে হবে। এই কথাটি যেন আমরা ভুলে না যাই। [সংকলিত] মযহারুল ইসলাম বাবলা : নির্বাহী স¤পাদক, নতুন দিগন্ত