স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি। কোনও আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি অন্যান্য প্রার্থীরা। তবে আসনগুলোতে নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) আসনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বড় ব্যবধান তৈরি করে জয় নিশ্চিত করেছেন। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনের মোট ১৭৮টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহমদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৬ ভোট। এছাড়া নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক বই প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৪ ভোট।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লক্ষ ১ হাজার ৫৩০ জন। নির্বাচনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯২৪টি। সেই হিসাবে এই আসনে ভোট প্রদানের হার দাঁড়িয়েছে ৫১.০৩ শতাংশ।
কামরুজ্জামান কামরুলের এই বিশাল জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে নির্বাচনী এলাকার ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। দলীয় নেতা-কর্মীরা এই জয়কে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বেসরকারি ঘোষিত ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. নাসির চৌধুরী। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনের মোট ১১২টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নাসির চৌধুরী পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী নিরঞ্জন দাস কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২০২ ভোট পেয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আসনে মোট ৫৪.৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৫৩টি ভোট বিভিন্ন কারণে বাতিল বলে গণ্য হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৭৪টি।
সুনামগঞ্জ-৩ আসন :
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ২২৬ ভোট। এছাড়া এই আসনে খেলাফতে মজলিস প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী রিক্সা প্রতীকে ১৪ হাজার ২০৩, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ (তুষার) টেবিল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২৩৭ ভোট। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে ৮৫৭, এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম ঈগল প্রতীকে ৪৯৩৭ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ ফুটবল প্রতীকে ১৭৭ ভোট পেয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৯৫০টাকা, এর মধ্যে বাতিল ভোটের সংখ্যা ৪৪৪২, সর্বমোট প্রদত্ত ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৯২টি। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৪৪.০৭%।
সুনামগঞ্জ-৪ আসন :
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম। ১১৬টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন মোট ৯৮ হাজার ৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সামছ উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩৫ ভোট। অর্থাৎ, ২২ হাজার ৩৫৭ ভোটের ব্যবধানে নূরুল ইসলাম জয়লাভ করেছেন। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন মোটর সাইকেল প্রতীকে ২৬ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ৭৮৯ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৩৫ ভোট পেয়েছেন।
এই আসনে এবার মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩,৭২,১৮৫ জন। এর মধ্যে ২,০৯,৫৫৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। যার মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২,০৩,৫৮৮টি এবং বাতিল হয়েছে ৫,৯৭০টি ভোট। এই আসনে ভোট প্রদানের হার ৫৬.৩০ শতাংশ।
সুনামগঞ্জ-৫ আসন :
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক, সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ৫৩ হাজার ০৬৯ ভোটের ব্যবধানের এক ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন - এ অঞ্চলে তার প্রভাব, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অটুট রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ছাতক-দোয়ারাবাজারের ১৭০টি ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৯২৫টি। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৯১৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১২১ ভোট।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেওয়াল ঘড়ি) ২ হাজার ২৭৮ ভোট, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) ১ হাজার ৫২৪ ভোট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. আজিজুল হক (আম) পেয়েছেন ৪৩৩ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রেরিত বার্তা অনুযায়ী, এই আসনের মোট ১৭১টি কেন্দ্রের ফল সমন্বয় করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৫৮ হাজার ২৭৯টি ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং ৫ হাজার ৪৯২টি ভোট বাতিল হয়েছে। আসনটিতে ভোট প্রদানের হার ৫০.০১ শতাংশ।