স্টাফ রিপোর্টার::
যথাসময়ে কাজ শুরু ও শেষ না হওয়ায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি ওঠেছে।
সুনামগঞ্জ জনউদ্যোগ নামের একটি সংগঠন রবিবার দুপুরে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনউদ্যোগের সদস্য কবি ও লেখক সুখেন্দু সেন’র সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য ও সংস্কৃতিকর্মী জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি জানান, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ফসলরক্ষা বাঁধ কার্যক্রমে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। ফসলরক্ষা বাঁধের প্রাক্কলন কর্মসূচি দৃশ্যমান ছিল না, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় পিআইসি সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পিআইসি গঠনে মাঠ প্রশাসনের গণশুনানী কার্যক্রম ছিল অকার্যকর ও লোকদেখানো। পিআইসি গঠন, অনুমোদন, প্রাক্কলনসহ সর্ব ক্ষেত্রেই অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলায় ১টি করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অধিকাংশ পিআইসির কাজে চরম ধীরগতি, অব্যবস্থাপনা ও নি¤œমানের কাজ লক্ষ করা গেছে বলে জানান নেতৃবৃন্দ। অনেক ক্ষেত্রে ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি, পিআইসিগুলো কাজের নির্দেশনা পেয়েছে প্রায় দুই সপ্তাহ বিলম্বে। এখনো অনেকে কাজ শুরু করেনি বলে জানান তারা। চলতি অর্থবছরে জেলায় ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৭০২টি পিআইসির মাধ্যমে বাঁধের কাজ চলছে। প্রকল্পের নামে অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত বাঁধও বিপুল বরাদ্দসহ হাওরের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসহ রাষ্ট্রিয় অর্থের অপচয় হচ্ছে। হাওরের কান্দা ও ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় আবাদি জমি, উর্বরতা ও গো-চারণ ভূমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাণ ও প্রকৃতি ক্ষতির মুখে। এসবের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হওয়ার দরকার বলে জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পিআইসি’র কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন, কারণ অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণী সম্বলিত সাইনবোর্ড ও পরিদর্শন বই দৃশ্যমান নেই। সংগঠনটি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম রোধে ১১টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের প্রাক্কলন যথাসময়ে শুরু ও শেষ করে তা স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে জানানো, আগামী বছর কার্যকর ও স্বচ্ছ গণশুনানীর মাধ্যমে পিআইসি গঠন নিশ্চিত করা, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করা, কাবিটা নীতিমালা অনুসারে প্রকৃত কৃষকদের দিয়ে পিআইসি গঠন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ রোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করা, গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলো চিহ্নিত করে টেকসই কাজ নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদার করা, সব পিআইসিতে কাজ শুরুর আগেই সাইনবোর্ড ও পরিদর্শন বই দৃশ্যমান রাখা, ‘কাবিটা নীতিমালা সংশোধনী ২০২৩’ এর পূর্ণাঙ্গ ও সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, জরিপের মাধ্যমে যেখানে সম্ভব সেখানে স্লুইচ গেইট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া, অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত বাঁধে প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে প্রকল্প এলাকার স্থানীয় জনগণ, কৃষক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও বন্যা সমস্যা নিরসনে পরিকল্পিত নদী খননের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনউদ্যোগের সদস্য অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন, বুরহান উদ্দিন, সদস্য সচিব সাইদুর রহমান আসাদসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
যথাসময়ে কাজ শুরু ও শেষ না হওয়ায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি ওঠেছে।
সুনামগঞ্জ জনউদ্যোগ নামের একটি সংগঠন রবিবার দুপুরে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনউদ্যোগের সদস্য কবি ও লেখক সুখেন্দু সেন’র সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য ও সংস্কৃতিকর্মী জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি জানান, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ফসলরক্ষা বাঁধ কার্যক্রমে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। ফসলরক্ষা বাঁধের প্রাক্কলন কর্মসূচি দৃশ্যমান ছিল না, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় পিআইসি সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পিআইসি গঠনে মাঠ প্রশাসনের গণশুনানী কার্যক্রম ছিল অকার্যকর ও লোকদেখানো। পিআইসি গঠন, অনুমোদন, প্রাক্কলনসহ সর্ব ক্ষেত্রেই অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলায় ১টি করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অধিকাংশ পিআইসির কাজে চরম ধীরগতি, অব্যবস্থাপনা ও নি¤œমানের কাজ লক্ষ করা গেছে বলে জানান নেতৃবৃন্দ। অনেক ক্ষেত্রে ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি, পিআইসিগুলো কাজের নির্দেশনা পেয়েছে প্রায় দুই সপ্তাহ বিলম্বে। এখনো অনেকে কাজ শুরু করেনি বলে জানান তারা। চলতি অর্থবছরে জেলায় ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৭০২টি পিআইসির মাধ্যমে বাঁধের কাজ চলছে। প্রকল্পের নামে অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত বাঁধও বিপুল বরাদ্দসহ হাওরের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসহ রাষ্ট্রিয় অর্থের অপচয় হচ্ছে। হাওরের কান্দা ও ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় আবাদি জমি, উর্বরতা ও গো-চারণ ভূমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাণ ও প্রকৃতি ক্ষতির মুখে। এসবের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হওয়ার দরকার বলে জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পিআইসি’র কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন, কারণ অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণী সম্বলিত সাইনবোর্ড ও পরিদর্শন বই দৃশ্যমান নেই। সংগঠনটি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম রোধে ১১টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের প্রাক্কলন যথাসময়ে শুরু ও শেষ করে তা স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে জানানো, আগামী বছর কার্যকর ও স্বচ্ছ গণশুনানীর মাধ্যমে পিআইসি গঠন নিশ্চিত করা, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করা, কাবিটা নীতিমালা অনুসারে প্রকৃত কৃষকদের দিয়ে পিআইসি গঠন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ রোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করা, গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলো চিহ্নিত করে টেকসই কাজ নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদার করা, সব পিআইসিতে কাজ শুরুর আগেই সাইনবোর্ড ও পরিদর্শন বই দৃশ্যমান রাখা, ‘কাবিটা নীতিমালা সংশোধনী ২০২৩’ এর পূর্ণাঙ্গ ও সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, জরিপের মাধ্যমে যেখানে সম্ভব সেখানে স্লুইচ গেইট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া, অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত বাঁধে প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে প্রকল্প এলাকার স্থানীয় জনগণ, কৃষক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও বন্যা সমস্যা নিরসনে পরিকল্পিত নদী খননের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনউদ্যোগের সদস্য অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন, বুরহান উদ্দিন, সদস্য সচিব সাইদুর রহমান আসাদসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।