সামছুল ইসলাম সরদার ::
ভাটির জনপদের রাজনৈতিক সচেতন এলাকা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই -শাল্লা) নির্বাচনী এলাকা। প্রবাদ আছে- রাজনীতি দেখতে চাও দিরাই শাল্লায় চলে যাও। এ আসন থেকে এমপি হয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ, বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, গোলাম জিলানী চৌধুরী ও নাছির উদ্দীন চৌধুরী প্রমুখ। এ আসনে ভোটার হলেন ৩ লাখ ৬ হাজার ৫০জন। মুসলিম ও হিন্দু অধ্যুষিত এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী, দাড়িপাল্লা নিয়ে মাঠে আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সাবেক সাধারণ স¤পাদক, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শিশির মনির ও কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীক নিয়ে লড়ছেন দিরাই কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এডভোকেট নিরঞ্জন দাস খোকন।
হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, সারা দেশের তুলনায় দিরাই-শাল্লা ব্যতিক্রম। এখানে দলের চেয়ে ব্যক্তির প্রাধান্য বেশি। কারণ জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ন্যাপ, একতা পার্টি থেকে বার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে জীবনের প্রথম পরাজিত হন। অপরদিকে নাছির উদ্দীন চৌধুরী ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি হলেও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। এবার ও তেমনটা দেখা যাচ্ছে। ব্যক্তি নাছির ও শিশির মনিরকে কেন্দ্র করে ভোটের প্রচারণা পুরোদমে শুরু হয়েছে। গ্রামে গঞ্জে, হাট বাজারে সর্বত্র নির্বাচনী আলোচনা। তারা জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুই প্রার্থীর সমর্থক সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লার প্রচারণা তুড়জোড়ে চললেও কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়েনি। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনে জয়-পরাজয় অনেকটা নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের উপর। যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোট বেশি পাবেনন তিনিই জয়ী হবেন। এর আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোটারদের মন জয়ে অনেকটা তৎপর।
সিপিবি প্রার্থী নিরঞ্জন দাস খোকন বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করছি, দিরাই শাল্লার আপামর জনতার পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমি যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি।
জামায়াত প্রার্থী শিশির মনির বলেন, উন্নয়ন বঞ্চিত দিরাই শাল্লার আপামর জনতার সেবা করাই আমার লক্ষ্য। তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি দিরাই শাল্লার সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছি। জনগণের যথেষ্ট সমর্থন পেয়েছি। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ আমি জয়ী হবো। প্রশাসনের ও নির্বাচনী এলাকার পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে, আমি চাই আমার এলাকার জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদান করুক। তিনি নির্বাচিত হলে শিক্ষা, যোগাযোগ, কৃষি সহ হাওরাঞ্চলে সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিএনপি প্রার্থী নাছির চৌধুরী বলেন, আমি দিরাই উপজেলার দুই বার চেয়ারম্যান ও ওই আসনের একবার এমপি ছিলাম। আমি বিরোধী দলের এমপি হওয়ায় আশানুরূপ উন্নয়ন করতে পারিনি। এবার ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং আমি এই এলাকার এমপি হলে আশানুরূপ উন্নয়ন করতে পারবো। এবারের নির্বাচনকে জীবনের শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আর কোনো দিন আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসবোনা, আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিরাই শাল্লার সকল উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাই আপনারা উন্নয়নের প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়ে এলাকার উন্নয়নে আমাকে সহায়তা করবেন।