জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী::
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) নির্বাচনী এলাকায় মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলগুলোর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদেরকে ঘিরেই দুই উপজেলার সাধার ভোটারদের মাঝে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত এই আসনে অতীত নির্বাচনের হিসেব অনুযায়ী দুই উপজেলায় বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। বিগত সময়ে একাধিক বার ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে ছাতক-দোয়ারাবাসীর প্রতিনিধিত্ব করেছেন কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের কর্মী-সমর্থ ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীবৃন্দ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নীরব প্রচারণা, সাংগঠনিক শক্তি ও জোটভিত্তিক রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে নীরব ভোট বিপ্লব ঘটানোর কৌশলে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৬২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। ভোটার তালিকায় নারী ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় প্রার্থীদের প্রচারণায় নারী ভোটারদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এই আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ও নতুন ভোটারও রয়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়গুলো ভোটারদের প্রধান ভাবনায় রেখেছেন। ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের ভোটার কৃষক আবদুল করিম বলেন, আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি এলাকার কৃষক ও খেটে খাওয়া গরিব মানুষের কথা সংসদে গিয়ে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারাবছর মানুষের পাশে থাকবেন। দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের নারী ভোটার রংমালা বেগম বলেন, এলাকার রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থা দীর্ঘ দিন ধরে। এবার বুঝেশুনে এমন একজন ভালো প্রার্থীকে ভোট দিব। যিনি রাস্তা-ঘাটের উন্নতি করবেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি প্রার্থী কেন্দ্র ও ওয়ার্ডভিত্তিক গণসংযোগ জোরদার করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি সক্রিয় করা, তরুণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং অতীত আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে ভোটারদের উজ্জীবিত করাই তাদের মূল কৌশল। এই আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সিলেট মহানগর জামায়াতের সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য, সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। জামায়াত প্রকাশ্য শোরগোল কম রেখে ঘরে ঘরে সাংগঠনিক যোগাযোগ, ধর্মীয় ও নীরব ভোটব্যাংকের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী বলেন, আমরা শোরগোলের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। মানুষ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তন আসবে নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমেই। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ছাতক ও দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব সমাবেশে ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যের স্বার্থে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক ও সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে ছাতক-দোয়ারায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সভা সমাবেশ করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, এই আসন বিএনপি’র ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। জনগণ যদি নির্বিঘেœ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় তাহলে ছাতক দোয়ারার মানুষ ধানের শীষের পক্ষে ভোট বিপ্লব ঘটাবে। যে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, ইনশাআল্লাহ আমরা এই আসন পুনরুদ্ধার করতে পারব। অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি) জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) এবং এনপিপির মো. আজিজুল হক (আম) প্রতীক।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) নির্বাচনী এলাকায় মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলগুলোর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদেরকে ঘিরেই দুই উপজেলার সাধার ভোটারদের মাঝে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত এই আসনে অতীত নির্বাচনের হিসেব অনুযায়ী দুই উপজেলায় বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। বিগত সময়ে একাধিক বার ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে ছাতক-দোয়ারাবাসীর প্রতিনিধিত্ব করেছেন কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের কর্মী-সমর্থ ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীবৃন্দ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নীরব প্রচারণা, সাংগঠনিক শক্তি ও জোটভিত্তিক রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে নীরব ভোট বিপ্লব ঘটানোর কৌশলে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৬২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। ভোটার তালিকায় নারী ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় প্রার্থীদের প্রচারণায় নারী ভোটারদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এই আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ও নতুন ভোটারও রয়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়গুলো ভোটারদের প্রধান ভাবনায় রেখেছেন। ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের ভোটার কৃষক আবদুল করিম বলেন, আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি এলাকার কৃষক ও খেটে খাওয়া গরিব মানুষের কথা সংসদে গিয়ে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারাবছর মানুষের পাশে থাকবেন। দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের নারী ভোটার রংমালা বেগম বলেন, এলাকার রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থা দীর্ঘ দিন ধরে। এবার বুঝেশুনে এমন একজন ভালো প্রার্থীকে ভোট দিব। যিনি রাস্তা-ঘাটের উন্নতি করবেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি প্রার্থী কেন্দ্র ও ওয়ার্ডভিত্তিক গণসংযোগ জোরদার করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি সক্রিয় করা, তরুণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং অতীত আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে ভোটারদের উজ্জীবিত করাই তাদের মূল কৌশল। এই আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সিলেট মহানগর জামায়াতের সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য, সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। জামায়াত প্রকাশ্য শোরগোল কম রেখে ঘরে ঘরে সাংগঠনিক যোগাযোগ, ধর্মীয় ও নীরব ভোটব্যাংকের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী বলেন, আমরা শোরগোলের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। মানুষ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তন আসবে নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমেই। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ছাতক ও দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব সমাবেশে ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যের স্বার্থে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক ও সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে ছাতক-দোয়ারায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সভা সমাবেশ করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, এই আসন বিএনপি’র ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। জনগণ যদি নির্বিঘেœ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় তাহলে ছাতক দোয়ারার মানুষ ধানের শীষের পক্ষে ভোট বিপ্লব ঘটাবে। যে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, ইনশাআল্লাহ আমরা এই আসন পুনরুদ্ধার করতে পারব। অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি) জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) এবং এনপিপির মো. আজিজুল হক (আম) প্রতীক।