সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, নারীদের প্রতি কটূক্তির দায়ে জামায়াতের আমিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে নারী সমাজের মনে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যালটেই এর জবাব পাবেন। দলের আমিরের এ ধরনের অবমাননাকর বক্তব্যের পরও জামায়াতের নারী নেত্রীদের নীরবতা লজ্জার।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নারীদের নিয়ে জামায়াতের আমিরের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিলের আগে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস।
সেলিমা রহমান বলেন, জামায়াতের আমির নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে ফুসে উঠেছে। কারণ দলটি নারী সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অনলাইনে নারীদের নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করছে। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, বিগত সরকারের সময়ে নারী নির্যাতনের নেপথ্যে তারাই জড়িত ছিল কিনা।
তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরের মন্তব্যে আমরা লজ্জিত হচ্ছি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। অথচ জামায়াত সবসময় নারীদের হেয়প্রতিপন্ন করে কথা বলছে। কই নারীরা কাজ করাতে আমাদের তো কিছু মনে হচ্ছে না। তাহলে আপনার কাছে কেন মনে হয়েছে? তার মানে আপনারা নারীদের সম্মান করতে জানেন না। বিএনপি একটি নারীবান্ধব দল। তাই দেশের নারীরা বিএনপিকে গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীদের বন্দি করার দিন শেষ। তারা প্রতিবাদ করতে শিখেছে। তাই জামায়াতকে সাবধানে কথা বলা উচিত।
মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, নারীদের নিয়ে জামায়াতের আমিরের কটূক্তিতে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তিনি তার স্ত্রী ও মাকে অসম্মান করতে পারেন না। এ বিষয়ে জামায়াতের নারীনেত্রীদেরও প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কারণ তিনি সমগ্র বাংলাদেশের নারী সমাজের অপমান করেছেন। জামায়াতে ইসলামী একাত্তরেও নারীদের নির্যাতন করেছে। তিনিও জামায়াতের আমিরকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।