ফসলি জমির মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ

আপলোড সময় : ০৩-০২-২০২৬ ০৭:১৯:৩৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০২-২০২৬ ০৭:১৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ফসলি জমি থেকে এস্কেভেটর দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে গন্ডামারা নদী সংলগ্ন ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অনিয়ম চললেও দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। জানা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের গন্ডামারা নদী সংলগ্ন ৭নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) প্রায় ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দে বাঁধ নির্মাণ করছে। তবে বাঁধে নেই কোনো সাইনবোর্ড, নেই পিআইসির সভাপতি, সদস্য সচিব কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কোনো সদস্যের উপস্থিতি। স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকদের অভিযোগ, যেখানে আগে বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হতো, সেখান থেকেই এস্কেভেটর দিয়ে প্রায় ১০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। মাহিন্দ্রা ট্রাকে করে সেই মাটি বাঁধে এনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী মাটি ফেলে ‘দুরমুজ’ দেওয়া হচ্ছে না। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম শঙ্কা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাউবোর দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) গোলাম কিবরিয়া পিআইসির সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাপক অনিয়মে জড়িত। এমনকি প্রয়োজনের তুলনায় এই বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। বাঁধের পাশের এক বাসিন্দা বলেন, যাদের জমি, তারাই নিজের জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। আমরা কিছু বললেও তাতে কোনো কাজ হয় না। স্থানীয় এক কৃষক জানান, এই জমিতে আগে বাদাম চাষ হতো। এখন গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়ায় আর কোনো ফসল হবে না। আরেক কৃষক বলেন, এভাবে গভীর করে মাটি কাটায় পাশের জমিগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। মাটির সাইড ভেঙে পড়ে আশপাশের জমিও নষ্ট হবে। বাধ্য হয়ে পাশের জমির মালিকরাও মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হবেন। বাঁধ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সামাজিক ও কৃষক সংগঠনের নেতারা জানান, জেলার হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম চলছে এবং কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। তাদের আশঙ্কা, যেভাবে কাজ চলছে, তাতে এ বছরও হাওরের কৃষকদের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। এসব অনিয়মে দায়িত্বশীলদের জড়িত থাকার অভিযোগও করেন তারা। এ বিষয়ে বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেন, তারা মাটি কিনে আনছেন। তবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা সরকারি বিধি অনুযায়ী নিষিদ্ধ - এমন প্রশ্নের জবাবে তারা কখনো বলেন এটি ফসলি জমি নয়, আবার কখনো বলেন এটি তাদের নিজস্ব জমি - এভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পিআইসির সভাপতি নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করে তার স্ত্রী পরিচয়ে একজন জানান, তিনি হাওরে জমি চাষাবাদ করতে গেছেন। এ বিষয়ে পাউবোর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দায়িত্বে থাকা এসও গোলাম কিবরিয়া বলেন, মাটি কোথা থেকে আনবে, জমি কেটে হোক বা অন্য কোথা থেকে, বাঁধ তো করতেই হবে। পাহাড় কেটে তো আর আনবে না। ফসলি জমি কাটার কোনো বিধিমালা আছে কি না - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাঁধ করতে হবে। মাটি কোথা থেকে আনবে, সেটা পিআইসির দায়িত্ব। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com