স্টাফ রিপোর্টার ::
ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে হাওর জেলা সুনামগঞ্জ। এই জেলার ৫টি আসনেই প্রতিশ্রুতির ঝাঁপি খুলে ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত প্রার্থীরা। আর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অপূর্ণ উন্নয়নের হিসাব কষে ভোটাররাও এবার এমন জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে চান, যিনি শুধু আশ্বাস নয়; বাস্তব কাজের মাধ্যমে অবহেলিত এলাকার ভাগ্য বদলাতে পারবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থীরা। আরো দু’টি বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপি’র প্রার্থীর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এতে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জের উন্নত যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী খনন, রেল, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, কর্মসংস্থানসহ নানা মহাপরিকল্পনার আশ্বাস বহুবার দেওয়া হয়েছে। সরকার ও পরিকল্পনা বদলেছে-কিন্তু বদলায়নি এই অঞ্চলের মানুষের বঞ্চনার চিত্র। অনেক ভোটারের ভাষ্য, এবার শুধু দলীয় পরিচয় নয়-প্রার্থীর সক্ষমতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই হবে ভোট দেওয়ার মূল মানদন্ড-।
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-তাহিরপুর-ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) : এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিএনপি’র প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী মো. আনিসুল হক দলীয় নির্দেশ মেনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পাশাপাশি কামরুজ্জামান কামরুলকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। এই আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় অনেকটাই নির্ভার রয়েছেন কামরুজ্জামান কামরুল। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতাও অনেক। তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক বেশ শক্তিশালী। এক্ষেত্রে বলা যায়, এই আসনে কামরুজ্জামান কামরুলকে টেক্কা দিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাঠখড় পুড়াতে হবে। তবে ভোটের সমীকরণে কামরুজ্জামান কামরুলই এগিয়ে থাকবেন। উল্লেখ্য, এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াতের ইসলামীর তোফায়েল আহমদ খান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) : সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হলেন সাবেক সংসদ সদস্য বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী অ্যাড. শিশির মনির। এই আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা নাসির চৌধুরীকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন এবং তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে একযোগে কাজ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আসনে নাসির চৌধুরী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। দিরাই-শাল্লার মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করতে উন্মুখ হয়ে রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) : এই আসনে বিএনপি’র প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ পড়েছেন চ্যালেঞ্জের মুখে। দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার হোসেন। ইতোমধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কার হলেও তিনি নির্বাচনী মাঠে ‘তালা’ প্রতীক নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন জোরালোভাবে। স্থানীয় সচেতন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ এবং তালা প্রতীকের মধ্যে। এম. কয়ছর আহমদকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইতোমধ্যে জোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, আনোয়ার হোসেন শান্তিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তাই এলাকাকেন্দ্রিক ভোট ব্যাংক তার পক্ষে থাকবে। এছাড়া ধানের শীষের ‘মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের বলয়’ আগে থেকেই জানান দিয়েছিলেন তাদের মধ্য থেকে যে প্রার্থী হবেন, তাকেই তারা সমর্থন দিবেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপি’র ‘মনোনয়নবঞ্চিতদের বলয়’ থেকে আনোয়ার হোসেন পূর্ণ সমর্থন পাবেন। সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিএনপি প্রার্থী এম. কয়ছর আহমদ-এর জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের শেখ মুশতাক আহমদ ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সৈয়দ তালহা আলম।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) : সুনামগঞ্জ-৪ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী হলেন দলের জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ স¤পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল। অপরদিকে, দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বিএনপি’র জেলা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তিনি নির্বাচনী মাঠে দমে যাননি। পূর্ণ উদ্যমে ‘মোটর সাইকেল’ প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিদিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। তার কর্মী এবং সমর্থকরাও নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, জয়নুল জাকেরীন চারবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একবার পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। হাছন পরিবারের এই সন্তানের রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। এই ভোট ব্যাংক নির্বাচনে সমীকরণ পাল্টে দিতে সক্ষম। সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপি প্রার্থী অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে ধানের শীষের জয়ের পথ অনেকটাই মসৃণ হতো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অপর প্রার্থীরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা কমিটির নায়েবে আমির অ্যাড. মো. শামস উদ্দিন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাড. নাজমুল হুদা হিমেল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহীদুল ইসলাম।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) : এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক স¤পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই আসনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী। তবে দলের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে কলিম উদ্দিন আহমদকে সমর্থন দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। নির্বাচনী মাঠের এমন পরিস্থিতি বিএনপি’র নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। তারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন নিরলসভাবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ইতোপূর্বে তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দুই উপজেলার জনসাধারণের সাথে রয়েছে তার আত্মিক সম্পর্ক এবং নিজস্ব ভোট ব্যাংক। পাশাপাশি ‘মিজান বলয়’ বিভেদ ভুলে তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন রয়েছেন খুবই সুবিধাজনক অবস্থানে। কোনো অঘটন না ঘটলে ধানের শীষের জয় হবে - এটা মোটামুটি নিশ্চিত।
ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে হাওর জেলা সুনামগঞ্জ। এই জেলার ৫টি আসনেই প্রতিশ্রুতির ঝাঁপি খুলে ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত প্রার্থীরা। আর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অপূর্ণ উন্নয়নের হিসাব কষে ভোটাররাও এবার এমন জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে চান, যিনি শুধু আশ্বাস নয়; বাস্তব কাজের মাধ্যমে অবহেলিত এলাকার ভাগ্য বদলাতে পারবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থীরা। আরো দু’টি বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপি’র প্রার্থীর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এতে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জের উন্নত যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী খনন, রেল, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, কর্মসংস্থানসহ নানা মহাপরিকল্পনার আশ্বাস বহুবার দেওয়া হয়েছে। সরকার ও পরিকল্পনা বদলেছে-কিন্তু বদলায়নি এই অঞ্চলের মানুষের বঞ্চনার চিত্র। অনেক ভোটারের ভাষ্য, এবার শুধু দলীয় পরিচয় নয়-প্রার্থীর সক্ষমতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই হবে ভোট দেওয়ার মূল মানদন্ড-।
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-তাহিরপুর-ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) : এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিএনপি’র প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী মো. আনিসুল হক দলীয় নির্দেশ মেনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পাশাপাশি কামরুজ্জামান কামরুলকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। এই আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় অনেকটাই নির্ভার রয়েছেন কামরুজ্জামান কামরুল। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতাও অনেক। তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক বেশ শক্তিশালী। এক্ষেত্রে বলা যায়, এই আসনে কামরুজ্জামান কামরুলকে টেক্কা দিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাঠখড় পুড়াতে হবে। তবে ভোটের সমীকরণে কামরুজ্জামান কামরুলই এগিয়ে থাকবেন। উল্লেখ্য, এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াতের ইসলামীর তোফায়েল আহমদ খান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) : সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হলেন সাবেক সংসদ সদস্য বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী অ্যাড. শিশির মনির। এই আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা নাসির চৌধুরীকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন এবং তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে একযোগে কাজ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আসনে নাসির চৌধুরী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। দিরাই-শাল্লার মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করতে উন্মুখ হয়ে রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) : এই আসনে বিএনপি’র প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ পড়েছেন চ্যালেঞ্জের মুখে। দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার হোসেন। ইতোমধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কার হলেও তিনি নির্বাচনী মাঠে ‘তালা’ প্রতীক নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন জোরালোভাবে। স্থানীয় সচেতন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ এবং তালা প্রতীকের মধ্যে। এম. কয়ছর আহমদকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইতোমধ্যে জোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, আনোয়ার হোসেন শান্তিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তাই এলাকাকেন্দ্রিক ভোট ব্যাংক তার পক্ষে থাকবে। এছাড়া ধানের শীষের ‘মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের বলয়’ আগে থেকেই জানান দিয়েছিলেন তাদের মধ্য থেকে যে প্রার্থী হবেন, তাকেই তারা সমর্থন দিবেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপি’র ‘মনোনয়নবঞ্চিতদের বলয়’ থেকে আনোয়ার হোসেন পূর্ণ সমর্থন পাবেন। সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিএনপি প্রার্থী এম. কয়ছর আহমদ-এর জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের শেখ মুশতাক আহমদ ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সৈয়দ তালহা আলম।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) : সুনামগঞ্জ-৪ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী হলেন দলের জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ স¤পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল। অপরদিকে, দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বিএনপি’র জেলা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তিনি নির্বাচনী মাঠে দমে যাননি। পূর্ণ উদ্যমে ‘মোটর সাইকেল’ প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিদিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। তার কর্মী এবং সমর্থকরাও নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, জয়নুল জাকেরীন চারবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একবার পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। হাছন পরিবারের এই সন্তানের রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। এই ভোট ব্যাংক নির্বাচনে সমীকরণ পাল্টে দিতে সক্ষম। সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপি প্রার্থী অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে ধানের শীষের জয়ের পথ অনেকটাই মসৃণ হতো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অপর প্রার্থীরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা কমিটির নায়েবে আমির অ্যাড. মো. শামস উদ্দিন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাড. নাজমুল হুদা হিমেল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহীদুল ইসলাম।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) : এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক স¤পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই আসনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী। তবে দলের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে কলিম উদ্দিন আহমদকে সমর্থন দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। নির্বাচনী মাঠের এমন পরিস্থিতি বিএনপি’র নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। তারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন নিরলসভাবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ইতোপূর্বে তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দুই উপজেলার জনসাধারণের সাথে রয়েছে তার আত্মিক সম্পর্ক এবং নিজস্ব ভোট ব্যাংক। পাশাপাশি ‘মিজান বলয়’ বিভেদ ভুলে তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন রয়েছেন খুবই সুবিধাজনক অবস্থানে। কোনো অঘটন না ঘটলে ধানের শীষের জয় হবে - এটা মোটামুটি নিশ্চিত।