মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা প্রদান করেছে পাউবো

অর্থ সংকটে বাঁধের কাজে ধীরগতি

আপলোড সময় : ০১-০২-২০২৬ ০৯:৩০:৩৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০২-২০২৬ ০৯:৩১:৪৯ পূর্বাহ্ন
তানভীর আহমেদ ::
*পাউবো’র দাবি এ পর্যন্ত বাঁধের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ।
সুনামগঞ্জের লাখো কৃষকের সারা বছরের অন্ন জোগান দেয় একমাত্র বোরো ফসল। এই ফসলকে আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। তবে চলতি বছর জেলার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ সংকট। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী কাজ শেষ করার সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও অর্ধেকের বেশি কাজ এখনো বাকি থাকায় দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের কপালে। সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবশ্যিকভাবে শেষ করার বিধান রয়েছে। হাতে আর মাত্র চার সপ্তাহ সময় থাকলেও জেলার ১২টি উপজেলার অধিকাংশ বাঁধে মাটির কাজ এখনো দৃশ্যমান নয়। স্থানীয়দের দাবি, অনেক জায়গায় বাঁধের কাজের অগ্রগতি ২৫-৩০ শতাংশের বেশি নয়, যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করছে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ১২টি উপজেলায় ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৯৬ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৪৬ কোটি টাকা। পাউবোর দাবি শনিবার পর্যন্ত বাঁধের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। জানাযায়, ২০১৭ সালে অকাল বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি হওয়ার পর বাঁধের কাজে ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে কৃষকদের নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গত দুই বছর ধরে সময়মতো অর্থ না পাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে বাঁধের কাজ এগোচ্ছে না। সময়মতো টাকা না পাওয়ায় অনেক পিআইসি সভাপতি স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিয়ে কাজ চালাচ্ছেন। পিআইসিদের এই নিরুপায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে মহাজনরা মেতে উঠেছেন সুদের কারবারে। বেশ কয়েকজন পিআইসি সভাপতির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের এমন অসহায়ত্বের কথা। তাহিরপুর উপজেলার মাতিয়ান হাওরের ৭১ নম্বর পিআইসির সভাপতি সোহেল মিয়া বলেন, টাকা না দিয়েই আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য, কিন্তু পকেটে টাকা নেই। প্রথম কিস্তিতে মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকের মজুরি আর ভেকু (এস্কাভেটর) ভাড়ার টাকা দিতে পারছি না। ধারদেনা করে কতদিন চালানো যায়? টাকা না পাইলে আর ২-৩ দিন গাড়ি চালাতে পারবো। এরপর বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হবে। জামালগঞ্জ উপজেলার শনির হাওর উপ-প্রকল্পের ২৫ নম্বর পিআইসির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, যথাসময়ে টাকা না দেওয়ায় দিনদিন কৃষকদের আগ্রহ কমছে। কাজ শুরুর দেড়মাসে মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ অনেকেই ৫০-৬০ শতাংশ কাজ শেষ করেছেন। আমার বাঁধে মাটি ফেলার কাজ শেষ পর্যায়। যতটাকা ছিলো সব দিয়ে বাঁধের কাজ করছি। এইরকম হইলে তো বাঁধের কাজ করা সম্ভব না। টাকা না পাইলে কাজ করবো কিভাবে? নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি পিআইসির সভাপতি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি ও ভেকু মেশিনের বিল প্রতিদিন পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু পাউবো থেকে মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় আছি। বাধ্য হয়ে মহাজনদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা সুদে নিতে হয়েছে। দিনশেষে বাঁধের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে কাজ করার বদলে সেই টাকার বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে মহাজনদের পকেটে। হাওর রক্ষা ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ স¤পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড একটা সুযোগ নিয়েছে। প্রত্যেক এলাকায় তাদের নিজস্ব একটা টিম আছে, বিভিন্ন বাঁধে এমন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যার কোনো প্রয়োজন নেই। তারপরও বিভিন্ন বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাঁধের নির্মাণ কাজে শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন ইচ্ছে করে গত ২ বছর ধরে যথাসময়ে পিআইসিদের টাকা দিচ্ছে না। এর কারণ, তারা মূলত কৃষকদের হয়রানি করার জন্যই যথাসময়ে টাকা দিচ্ছে না। তারা চায় কৃষকরা যাতে পিআইসির প্রতি আগ্রহী না হয়। কৃষকরা আগ্রহী না হলে সেই পুরনো ঠিকাদারি প্রথা নিয়ে আসতে চায় পাউবো। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, শনিবার পর্যন্ত ৫০ শতাংশ বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম বিলে ১৬ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরও ২৫ শতাংশ টাকা দেওয়া হবে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com