স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরের প্রচার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দিরাই উপজেলার কাদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য বিএনপির লোকজনকে দায়ী করেছেন শিশির মনির। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে সাজানো বলে দাবি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন সেলিম (২৮) ও জয় (২০)। আহত সেলিমকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত জয় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
শিশির মনিরের কর্মী-সমর্থকেরা জানান, একটি গাড়িতে এলইডি স্ক্রিন ব্যবহার করে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। এতে শিশির মনিরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তারা জানান, বৃহ¯পতিবার সন্ধ্যায় প্রচার গাড়িটি দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধলবাজার এলাকায় গেলে সেখানে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে একটি মিছিল বের হয়। এ সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রচার গাড়ির প্রজেক্টরের শব্দ কমিয়ে দেওয়া হয়। তখন মিছিল থেকে কয়েকজন এসে গাড়িটি সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বলেন। পরে গাড়িটি দিরাই সদরের দিকে রওনা দিলে কাদিরপুর এলাকায় পৌঁছলে পেছন থেকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে গাড়িতে হামলা চালায়। এতে গাড়িটির সামনের কাচ ভেঙে যায়।
জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, বিএনপির লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার প্রচার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে আমাদের দুজন কর্মী আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আহমদ বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমার ইউনিয়নে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি ওই সময় কাদিরপুরে একটি উঠান বৈঠকে ছিলাম। ইউএনও অফিস থেকে আমাকে জানানো হয়েছে, আমার এলাকায় নাকি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, হামলার ঘটনায় একজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।