সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
আজ সরস্বতী পূজা, বাণী অর্চনার আরাধ্য দিন। শুল্কপক্ষের পঞ্চমীতে আজ শুক্রবার শ্বেতশুভ্র কল্যাণময়ী বিদ্যাদেবীর আবাহন হবে। মা সরস্বতী জ্ঞানদায়িনী বিদ্যাদেবী সরস্বতী শ্বেতশুভ্র বসনা। তার এক হাতে বীণা অন্য হাতে বেদপুস্তক। অর্থাৎ বীণাপানিতে যার তিনি বীণাপানি- সরস্বতী। আর এ থেকেই বাণী অর্চনার প্রচলন। বিদ্যাদেবীর কৃপালাভের আশায় সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঘরে ঘরে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হবে।
অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর পাদপদ্মে প্রণতি জানাবেন পুণ্যার্থীরা। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুল্কপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে শ্বেতশুভ্র কল্যাণময়ী বিদ্যাদেবীর আবাহন করা হয়। ঢাকা-ঢোল-কাঁসর আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে বিভিন্ন পূজামন্ডপ।
সরস্বতী বিদ্যার ও ললিতকলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে পূজিত হন। ঐশ্বর্যদায়িনী, বুদ্ধিদায়িনী, জ্ঞানদায়িনী, সিদ্ধিদায়িনী, মোক্ষদায়িনী এবং শক্তির আঁধার হিসেবে সরস্বতী দেবীর আরাধনা করা হয়।
ধর্মীয় বিধান অনুসারে, মাঘ মাসের শুল্কপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সাদা রাজহাঁসে চড়ে বিদ্যা ও জ্ঞানদাত্রী দেবী সরস্বতী পৃথিবীতে আসেন। আজ পূজামন্ডপে পূজার্থীরা মায়ের পদপদ্মে অঞ্জলি দেবেন। দেবীর সামনে ‘হাতেখড়ি’ দিয়ে শিশুদের বিদ্যাচর্চার সূচনা হবে অনেক স্থানে।
জ্ঞান, সঙ্গীত ও শিল্পকলার দেবী হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের বাইরে জাপান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের কিছু কিছু স্থানে সরস্বতী পূজার চল আছে। কালপরিক্রমায় এ পূজা ব্যক্তি ও পরিবারের গন্ডি পেরিয়ে এখন বাঙালি হিন্দুদের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে ক্রমশ এক সর্বজনীন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের রূপ লাভ করেছে।
হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থে সরস্বতীয় রূপ-মাহাত্ম্য বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। বেদ, পুরাণ ও বিভিন্ন শাস্ত্রীয় গ্রন্থে সরস্বতীর নানা রূপ ও প্রকৃতির বর্ণনা পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে সরস্বতীর মাহাত্ম্য যেভাবেই বা যে রূপেই তুলে ধরা হোক না কেন, বাঙালি সংস্কৃতিতে সরস্বতীকে বিদ্যার দেবী হিসেবে পূজা করা হয়ে থাকে।