স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর একটি অংশ অবৈধভাবে দখল করে মাছ শিকারের কারণে নৌযান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। নদীর বুকে বাঁশের খুঁটি, জাল ও অস্থায়ী বেড়া বসিয়ে মাছ ধরার ফলে স্থানীয় নৌযান চালক ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
সুনামগঞ্জ শহরতলির জগন্নাথপুর, মইনপুর, ব্রাহ্মণগাঁও ও রাজারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাঁশের বেরিকেড ও জাল স্থাপন করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ডিঙ্গি ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর একটি প্রভাবশালী চক্র সুরমা নদীর অংশবিশেষ দখল করে এভাবে মাছ শিকার করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ অবৈধ কার্যক্রমের ফলে নৌপথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই নৌযান আটকে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
নৌকা চালকরা জানান, স্থানীয় কিছু লোক নিজেদের স্বার্থে নদী দখল করে নিয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে নৌযান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাল ও বাঁশের বেরিকেডে ধাক্কা লেগে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সেলু নৌকার মাঝি আব্দুস সবুর বলেন, হালুয়ারঘাট থেকে শহরের রিভার ভিউ এলাকায় যাতায়াত করতে নদীর মাঝপথ দিয়ে চলতে হয়। বেরিকেডের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। কারণ আসা-যাওয়া নৌযানের সাথে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দ্রুত এসব অবৈধ বেরিকেড অপসারণ করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা সজল দাস বলেন, নদীতে বেরিকেড দিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ বলেন, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানান। পরে আমরা অভিযান পরিচালনা করবো।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেরিন সুলতানা বলেন, নদী দখল করে ও বেরিকেড বসিয়ে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনত অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।