স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহ¯পতিবার রাতে লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন লাইব্রেরির কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
সভায় সুনামগঞ্জের কৃতী সন্তান বরেণ্য লেখক, সাংবাদিক, আইনজীবী আলহাজ্ব আবু আলী সাজ্জাদ হোসাইনের পক্ষে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি বীরবিক্রম সম্মাননা পদক’ সম্মাননা গ্রহণ করেন সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৬৫ বছর যাঁরা সাধারণ স¤পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বার্ষিক সাধারণ সভা সঞ্চালনা করেন লাইব্রেরির সাধারণ স¤পাদক অ্যাডভোকেট খলিল রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়-ব্যয়ের বিবরণী উপস্থাপন করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরীর কোষাধ্যক্ষ অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন। এর আগে বিকাল ৫টা থেকে সদস্যদের নিবন্ধন শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাপস শীল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী ও কলামিস্ট হোসেন তওফিক চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মল্লিক মো. মঈন উদ্দীন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সহ-সভাপতি সুখেন্দু সেন ও প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম।
মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কবি রবিউল লেইস রোকেস, লেখক ও গীতিকার ইশতিয়াক রুপু, লেখক রেহান উদ্দিন রেজু, সুনামগঞ্জ সনাকের সভাপতি কানিজ সুলতানা, আশরাফ হোসেন লিটন, মো. আবুল হোসেন, কবি ওবায়দুল মুন্সি ও সাজাউর রহমান, আইনজীবী জয়শ্রী দেব, নাসিম চৌধুরী, মো. রাজু আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পাঠাগারের কাজ। বর্তমানে বই পড়া নিয়ে বড় একটা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বই পড়ার দিক দিয়ে আমাদের দেশের অবস্থা একেবারে তলানীতে। এখন বছরের শুরুতেই আমরা আছি, এখন বাচ্চাদের পড়াশোনার চাপ একেবারেই কম থাকে। এই সময়টাতে আমাদের একটা সুযোগ রয়েছে। কয়েকটা বই সিলেক্ট করে মহান ভাষা দিবসের প্রাক্কালে একটা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। বিজয়ীদের পুরস্কারে ভূষিত করবো আমরা। এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়বে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৬৫ বছরের যাত্রায় সুনামগঞ্জের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা ঘটনার সাক্ষী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক। এই বাতিঘরে শহরের শত শত মানুষের সুখ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ নানা ক্ষেত্রে লাইব্রেরিটি ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছে। বক্তারা বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে আলোকিত মানুষ তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিমুখী করতে হবে।
উন্মুক্ত আলোচনা সভায় লাইব্রেরি মার্কেটকে বহুতল ভবনে রূপান্তর, বই প্রকাশে লেখকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানেরও প্রস্তাব করেন বক্তারা।