স্টাফ রিপোর্টার ::
জাতীয় সমাজসেবা দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘আত্ম-অনুসন্ধান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের জাতীয় সমাজসেবা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রযুক্তি ও মমতায়, কল্যাণ ও সমতায়, আস্থা আজ সমাজসেবায়।’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নুরুর রব চৌধুরী ও ডা. তানজিল হক।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ স¤পাদক হাবিবুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক নুরুল ইসলাম গাজী, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ স¤পাদক সুবিমল চক্রবর্তী চন্দন, আরডিএস এর নির্বাহী পরিচালক মিজানুল হক সরকার, তৃণমূল প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম. তাজুল ইসলাম, প্রতিবন্ধী সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি নুর উদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল বলেন, মর্যাদার জায়গা সবার জন্য সমান। মানুষ দয়ার ওপর বেঁচে থাকতে চায় না; তারা নিজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
তিনি বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর উপকারভোগী, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী, বয়স্ক মানুষসহ সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সমাজসেবার ঋণ গ্রহণ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে, তা যেন বাস্তবমুখী উদ্যোগে কাজে লাগে সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কাউকে সহযোগিতা করার সময় অবশ্যই তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, প্রতি বছর দেশে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা সমাজসেবা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলায় শত কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের গণভোটে ভোটারদের জন্য দুটি অপশন ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’। চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোকে একটিমাত্র প্রশ্নে ভোটাররা তাদের মতামত প্রদান করবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, যারা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং সংসদীয় আসন সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় গণভোটের আলোচ্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।