স্টাফ রিপোর্টার ::
দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলা হয়ে উঠেছিল নামধারী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীরা ঘাঁটি গেড়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী এবং অস্ত্র মহড়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের উপস্থিতিতে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের ছায়া ছিল বিরাজমান।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সুনামগঞ্জ জেলায় দুটি অপারেশনাল ক্যাম্প স্থাপন করেছে যা অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দমন ও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দেশি-বিদেশি অস্ত্রসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করেছে। এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী দুইটি ক্যাম্প থেকে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে ২টি পিস্তলসহ ৪০টির অধিক দেশী ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪০০টির অধিক মরণঘাতি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা করেছে। পাশাপাশি অপারেশন ডেভিল হান্ট এবং বিভিন্ন অপরাধের আওতায় পলাতক আসামিসহ মোট ২০০ এর অধিক গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগে যেকোনো তুচ্ছ থেকে বড় ঘটনা হলেই অস্ত্রের তোপে সাধারণ জনগণ ভয়ে থাকতেন। আধিপত্য বিস্তার থেকে চাঁদাবাজি এবং ভূমি দখলসহ নানা বিষয়ে বিবাদ সৃষ্টি হলেই অস্ত্রের প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের মতো ঘটনা ঘটতো।
জগন্নাথপুর উপজেলার হাতিয়ায় গ্রামের জনসাধারণের সাথে যোগাযোগ করে জানাযায়, সেনাবাহিনী কয়েক মাস আগে একটা অভিযান পরিচালনা করেন যেখানে নদী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ লিডার এবং সিরিয়াল কিলার তাজউদ্দীন আহমেদসহ ৩ সহকারীদের বিপুল পরিমাণের অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে যা এলাকায় স্বস্তি এনে দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসী এবং অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এরূপ অভিযান জারি থাকলে জনমনে স্বস্তিবোধ আসবে এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করবে।