স্টাফ রিপোর্টার ::
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদে সারাদেশের মতো শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জ। বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় নেত্রী ও দেশের শীর্ষ অভিভাবক ছিলেন। প্রিয় নেত্রীর এমন মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন হাওরজেলার মানুষজন। রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ আপামর মানুষ শোক জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তাদের শোকানুভূতির কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি। মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডস্থ বিএনপির কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। দলীয় কার্যালয়ের প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকগাঁথা লিখতে শোকবই খোলা হয়েছে। এছাড়া নেতাকর্মীরা কালোব্যাজ ধারণ করেছেন।
জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে আমরা আপোষহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের মাকে হারিয়েছি। এই শোক সইবার মতো নয়। জাতির এ ক্ষতি কখনো পূরণ হবার নয়। বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করেননি। এমন একজন নেত্রীকে হারিয়ে সারাদেশে শোকাবহ অবস্থা বিরাজ করছে। বাংলাদেশের মানুষ নেত্রীর জন্য কাঁদছেন।
এদিকে, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল থেকেই সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেলেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল, বিএনপি নেতা আনিসুল হক। এছাড়াও তাদের সাথে অনেক নেতাকর্মী ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এছাড়াও, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীকে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে এবং বিভিন্ন বাসে করে রওয়ানা দিতে দেখা যায়।
নেতাকর্মীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো দেখতে এবং জানাজায় শরিক হতে তারা ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও রিজার্ভ করা বাসে করে রওয়ানা হয়েছেন। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক নেতাকর্মীকে খালেদা জিয়ার বিদায়ে শোকাচ্ছন্ন দেখা যায়।
এছাড়া, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ স¤পাদক ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ।
জেলা যুবদলের সাংগঠনিক স¤পাদক কামরুল ইসলাম রাজু বলেন, নেত্রীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তাঁর জানাজায় অংশ নিতে অগণিত নেতাকর্মী ঢাকা যাচ্ছেন। দলের অনেক সিনিয়র নেতা দিনেই চলে গেছেন। বাকি নেতাকর্মী রাতে যাবেন। সবার কাছে নেত্রীর জন্য দোয়া চাই।
এদিকে খালেদা দিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। জেলা জামায়াতের আমীর তোফায়েল আহমদ খান বলেন, আপোষহীন খালেদা জিয়া দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র রক্ষা, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ও ইসলামের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ এবি পার্টির সভাপতি জসীম উদ্দিন বলেন, বেগম জিয়া একজন মজলুম নেত্রী। ফ্যাসিস্ট সরকার তাঁকে নির্যাতন করেছে। তিনি দমে যাননি, আপোষ করেননি। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ হওয়ার নয়।
বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবেশ ও খাদ্য বিষয়ক স¤পাদক সালেহিন চৌধুরী শুভ বলেন, রাজনীতিতে অনন্য নাম খালেদা জিয়া। রাজনৈতিকভাবে মতের ভিন্নতা ছিলো কিন্তু তিনি গণতন্ত্রের জন্য যে অবদান রেখে গেছেন তার জন্য তিনি এ জাতির কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।