স্টাফ রিপোর্টার ::
হাওরজেলা সুনামগঞ্জে জেঁকে বসেছে শীত। সোমবার সারাদিন সূর্যের দেখা মিলেনি। এই কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষরা। কৃষিকাজও ব্যাহত হচ্ছে। অতিপ্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হননি। শহরের রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি ছিল কম।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভোরে কাজে বের হওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিকদের শীত বাড়তি কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন।
রিকশাচালক আলমগীর হোসেন বলেন, শীতের প্রকোপ বেড়েছে। তীব্র ঠান্ডায় রিকশা চালাতে পারি না। ঠান্ডা বাতাসও কষ্ট দিচ্ছে। সন্ধ্যার পর ঠান্ডা আরও বেড়ে যায়। সারাদিনে রোদের দেখা পাইনি।
শহরের কালীবাড়ি মোড়ে শ্রমিক ইলিয়াস আলী কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, এমন শীতের সময় কাজ পাইনি। খালি হাতে বাড়ি ফিরছি। এমন অবস্থা থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের উপ সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানান, সিলেটে সোমবার তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রী। এমন তাপমাত্রা অব্যাহত থাকত পারে। পাশাপাশি আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, সারাদেশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাতে শীত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া দেশের কোথাও কোথাও ঘন কুয়াশা পড়তে পারে বলেও সংস্থাটি আভাস দিয়েছে। সোমবার সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়েছে, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকার অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।