জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বিএনপির চারজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর সৌজন্য সাক্ষাৎ বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই সাক্ষাতে বিএনপি প্রার্থীরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করার পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। একইসঙ্গে তারা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চায় এমন সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন ঘিরে আস্থার সংকট নতুন নয়। অতীত অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষের মনে আজও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আগেভাগে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় এবং নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কেবল প্রত্যাশা বা আশ্বাস যথেষ্ট নয়, এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে মাঠপর্যায়ের কর্মকান্ডে
নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের বক্তব্যে নির্বাচন সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। এই অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ দিতে হলে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কেন্দ্রভিত্তিক কঠোর নজরদারি এবং যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতাও কম নয়। আচরণবিধি মেনে চলা, নেতাকর্মীদের সংযত রাখা, সহিংসতা ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি পরিহার করা - এসব বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। নির্বাচনী মাঠে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা যেমন জরুরি, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
গণতন্ত্রের মূল শক্তি একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। বর্তমান সৌজন্য সাক্ষাৎ সেই প্রত্যাশার একটি সূচনা মাত্র - এর সফল পরিণতি নির্ভর করবে নির্বাচনের দিন ও তার আগের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর।