ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
ধর্মপাশা উপজেলার খয়েরদিরচর আলীম মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রে রবিবার (২৮ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা বাবদ ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিয়েও প্রবেশপত্র না আসায় এক মাদ্রাসা ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রীটির নাম দিপালী আক্তার। সে পাশের মধ্যনগর উপজেলার জামিয়া হাতিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি পাশের মধ্যনগর উপজেলার বলরামপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের দরিদ্র কৃষক জসীম উদ্দিনের মেয়ে।
খয়েরদিরচর আলীম মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এই পরীক্ষা কেন্দ্রটিতে রবিবার সকাল ১০টা থেকে অষ্টম শ্রেণির কোরআন ও তাজবীদ বিষয়ের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধর্মপাশা উপজেলার খয়েরদিরচর আলীম মাদ্রাসা ও পাশের মধ্যনগর উপজেলার জামিয়া হাতিমিয়া দাখিল মাদ্রাসা, নোয়াগাঁও দাখিল মাদ্রাসা এবং মহিষখলা দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ২১জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
মধ্যনগর উপজেলার জামিয়া হাতিমিয়া দাখিলজ মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিপালী আক্তার জানায়, অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আমার দুইজন সহপাঠীকে নিয়ে ফরম ফিলাপ বাবদ ছয়শত টাকা, দুই কপি ছবি ও জন্মনিবন্ধনসহ আমাদের মাদ্রাসার সহকারী সুপার নাজিম উদ্দিন হুজুরের কাছে জমা দিয়েছিলাম। রবিবার সকাল ৯টার দিকে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে দেখতে পাই আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদরেকে প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে। আমি আমার প্রবেশপত্র
আনতে মাদ্রাসা সুপার শামসুল হক সিদ্দিকী হুজুরের কাছে গেলে তিনি জানান আমার প্রবেশপত্র আসেনি।
ওই ছাত্রীর আপন খালা শিরীন আক্তার (৩৫) বলেন, দিপালীদের পারিবারিক অবস্থা ভালো নয়। আমি একটি সোয়েটার কো¤পানিতে চাকরি করি। আমি আমার বেতনের টাকা থেকে একজন শিক্ষককে মাসিক ৮০০টাকা দিয়ে দিপালীকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ছয়মাস ধরে প্রাইভেট পড়িয়েছি। পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় সে ভীষণ মন খারাপ করে খুবই কেঁদেছে। যাদের গাফিলতির কারণে আমার বোনের মেয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি আমি সকলের শাস্তি চাই।
জামিয়া হাতিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার নাজিম উদ্দিন বলেন, অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ বাবদ আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দিপালী আক্তার আমার কাছে কোনো টাকা, ছবি ও জন্ম নিবন্ধন জমা দেয়নি।
জামিয়া হাতিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও পরীক্ষা কেন্দ্রটির হল সুপার শামছুল হক সিদ্দিকী বলেন, আজ অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় চারটি মাদ্রাসার ২১জন শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আমাদের মাদ্রাসায় ফরম ফিলাপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সহকারী সুপার নাজিম উদ্দিন সাহেবেকে। তিনি আমার কাছে ফরম ফিলাপের ১০জন শিক্ষার্থীর টাকা, জন্ম নিবন্ধন ও ছবি জমা দিয়েছিলেন। আমি যাদের টাকা,ছবি ও জন্মনিবন্ধন পেয়েছি তাদের সবারই প্রবেশপত্র এসেছে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, খবরটি আমিও শুনেছি। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে এ ব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।