স্টাফ রিপোর্টার ::
বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে নবীন সদস্যদের বরণ এবং অবসরপ্রাপ্ত ও মরণোত্তর সদস্যদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ২টায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আয়েশা আক্তার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ইয়াসিন আরাফাত, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আধিত্য পাল, জেলা সার্ভেয়ার সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন এবং সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আবুল ফজল।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি কাজী শামসুল হুদা শোয়েল। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি শওকত আলী ও মিলি রাণী নাথ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অজিত চন্দ্র দাস ও রেবুল কুমার দাস।
অনুষ্ঠানের আলোচনা সভা শেষে অবসরপ্রাপ্ত ও মরণোত্তর মোট ৬৬ জন সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং নবীনদের বরণ করে নেয়া হয়। পাশাপাশি অতিথিবৃন্দকেও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল বলেন, সুনামগঞ্জ একটি রেভিনিউ জেলা হিসেবে পরিচিত। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই জেলায় ভূমি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে এসে সাধারণ মানুষ আবেগতাড়িত থাকেন এবং ন্যায্য সেবা পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। সেই মানসিকতা মাথায় রেখে ভূমি কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও মনোযোগী হয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের কাজ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সব সেবা গ্রহীতার সব দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে আইনসম্মত যেসব কাজ করা সম্ভব, সেগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে স¤পন্ন করতে হবে। সেবার মান ও আচরণ এই দুইয়ের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। ভূমি অফিস ও ভূমি কর্মকর্তাদের ওপর জনগণের যে আস্থা রয়েছে, তা যেন কোনো অবস্থাতেই নষ্ট না হয়। কোনো পরিস্থিতিতেই সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি করা যাবে না; জনবান্ধব ও স্বচ্ছ সেবাই হতে হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ভূমি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অংশীদারিত্ব জড়ানো যাবে না। এ ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ সদরের ধোপাজান নদী একটি চলমান নদী, যা কোনোভাবেই ইজারা দেওয়া হয়নি। কেউ যদি অবৈধভাবে নদী দখল বা ভোগ করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ সরকারি খাস জমি রয়েছে, যা বর্তমানে অবৈধ দখলে আছে। এসব জমি দ্রুত চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
ভূমি উন্নয়ন কর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে জেলায় ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ কোটি টাকা। অথচ আদায় হয়েছে মাত্র ১৭ কোটি টাকা। এই আদায় যদি অন্তত ৬০ কোটি টাকায় পৌঁছাত, তাহলে তা অধিকতর যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য হতো।
তিনি বলেন, সদর উপজেলায় অকৃষি জমির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং উল্লেখযোগ্য শিল্পকারখানাও নেই। তারপরও যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভূমি উন্নয়ন কর আদায় সম্ভব হয়, তাহলে তা দেশব্যাপী একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় কাজের চাপের কারণে অনেক সময় কাক্সিক্ষত আচরণ প্রদর্শন করা সম্ভব হয় না, যা থেকে দুর্বনাম সৃষ্টি হয়। তবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেবা গ্রহীতাদের কাছে নিজেদের মানবিক ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
তিনি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়, সেগুলো সহজ ও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলা গেলে সেবা গ্রহীতারাও বিষয়টি উপলব্ধি করবেন। এতে ভুল বোঝাবুঝি ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে না।
সব শেষে তিনি বলেন, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি সেবামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। জনগণের প্রতি আন্তরিকতা ও সদিচ্ছাই পারে একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও মানবিক প্রশাসন গড়ে তুলতে।