স্টাফ রিপোর্টার ::
জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) উদ্যোগে গজারিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ৫১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শনিবার বিকেলে গজারিয়া বাজার এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষকরা আমাদের দেশের মূল শক্তি। হাওর এলাকার কৃষকদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক। কৃষকের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। গজারিয়া খাল পুনঃখনন হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বিভাগ-১, সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার। তিনি বলেন, গজারিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পরিষদের সদস্য নূরুল হক আফিন্দী বলেন, নিজ এলাকার এই সমস্যার কথা আমি দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার এই সমস্যা দেখেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর তারা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন, যার ফলশ্রুতিতেই আজ গজারিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা সম্ভব হয়েছে।
ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার বলেন, ডালিয়ার খাল খনন করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও ভালো ফল পাওয়া যেত। এ বছর যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কৃষকদের স্বার্থে আগামী অর্থবছরে ডালিয়ার খাল খননের ব্যবস্থা করা হলে এই অঞ্চলের পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (জামালগঞ্জ পানি উন্নয়ন শাখা-১) মো. জাহিদুল ইসলাম জনি, বাপাউবো’র কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওর জেলার অন্যতম বড় হাওর। বর্ষা মৌসুম শেষে এই হাওরে প্রধানত বোরো ধান চাষ হয়। এক ফসলি এই হাওরের চাষযোগ্য জমিতে হাওরসংলগ্ন অন্তত ৪০টি গ্রামের কৃষক ধান উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে হাওরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমিতে বোরো ধান চাষ করা যাচ্ছে না। চলতি বছরও জলাবদ্ধতার কারণে অন্তত এক হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধানের প্রকারভেদে প্রতি হেক্টরে ৪ থেকে ৭ মেট্রিক টন উৎপাদন হলেও গড়ে ৫ মেট্রিক টন হিসেবে হিসাব করলে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন কম হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রকল্পের কাজের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও দ্রুত খনন কাজ স¤পন্ন করা গেলে চলতি মৌসুমেই বোরো ধান চাষ সম্ভব হবে। তারা কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।