স্টাফ রিপোর্টার ::
জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের খুজারগাঁও করচ বাগান এখন পরিযায়ী পাখিদের ডানা ঝাপটানো আর কলকাকলিতে মুখর। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শীতের শুরুতেই সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয়ের পাদদেশ থেকে আসা হাজারো অতিথি পাখি আশ্রয় নিয়েছে এই বাগানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা এই বাগানটি এখন পাখির এক নিরাপদ আবাসস্থল। তবে পাখিদের এই মিলনমেলায় বিঘœ ঘটাচ্ছে কিছু অসাধু শিকারি। অভিযোগ রাতের আঁধারে ফাঁদ পেতে অতিথি পাখি শিকার করছেন স্থানীয় কিছু অসাধু পাখি শিকারী।
এদিকে, এই করচ বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। স্থানীয়রা জানান, এই সময়ে বাগানটি তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়। গাছের ডালে ডালে সাদা বক, পানকৌড়ি আর নাম না জানা হাজারো রঙের পাখির মেলা বসে। বিকেলে গোধূলি লগ্নে যখন পাখিরা ডানা মেলে আকাশে ওড়ে, তখন এক অপার্থিব সৌন্দর্য্যরে সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এখানে পাখি আসে। কিন্তু কিছু লোভী মানুষ রাতের আঁধারে ফাঁদ পেতে বা বিষটোপ দিয়ে এই পাখিদের শিকার করে।
সাইদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, পাখি দেখতে মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসে। কিন্তু শিকারিদের ভয়ে পাখিরা অনেক সময় এই বাগান ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যায়। দুষ্কৃতিকারীরা খুব গোপনে কাজ করে। এদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
এদিকে, পাখি শিকার বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে বাগানের প্রবেশদ্বারে সতর্কতামূলক নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই নোটিশে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশে পাখি শিকার একটি গুরুতর অপরাধ, যা “বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২” অনুযায়ী দ-নীয়; এই আইনে তফসীলভুক্ত পাখি (বিশেষ অতিথি ও পরিযায়ী পাখি) হত্যা করলে বা কেনাবেচা করলে প্রথমবার ১ বছর পর্যন্ত কারাদ-, ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দ- হতে পারে, এবং একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি করলে শাস্তি ও জরিমানা বৃদ্ধি পেয়ে ২ বছর কারাদ- ও ২লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। যেহেতু ফেনারবাঁক ইউনিয়নের (খুজারগাঁও করচ বাগান) নিরাপদ পাখির আবাসস্থল হিসেবে প্রচুর অতিথি পাখির সমাবেশ ঘটে, বিধায় একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অতিথি পাখি সহ সকল বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আসুন আমরা পাখি শিকার সহ বন্যপ্রাণি নিধন হতে বিরত থাকি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাখিরা শুধু সৌন্দর্য্যরে প্রতীক নয়, এরা হাওরের পোকামাকড় খেয়ে ফসলের সুরক্ষা দেয় এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কেবল আইন দিয়ে নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, গতবছর একজন পাখি শিকারি পাখি শিকার করে লাইভে এসেছিল। এরপর আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পাখি শিকারের বিরুদ্ধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।