মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী ::
দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রির অবাধ কর্মকা-ে কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার সদর, পান্ডারগাঁও, সুরমা, লক্ষ্মীপুর, বোগলাবাজার, বাংলাবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির অসাধু চক্র নির্বিঘ্নে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে প্রভাবশালী একটি চক্র কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করছে। ফলে জমির স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
বিশেষ করে আমন ধান কর্তনের পর ও বোরো আবাদ শুরুর আগের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তারা শুধু ফসলি জমিই নয়, খাস জমি ও নদীর তীর থেকেও অবৈধভাবে মাটি কেটে নিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার শান্তিপুর হাওরে সরকারি জমি ও কৃষকদের ধান মাড়াইয়ের স্থান কেটে গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে। প্রতিরাতে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে মাটি উত্তোলন করে ট্রাক্টর ও ট্রাকযোগে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি।
উপজেলা কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কেটে নিলে জমির উর্বরতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি ও পরিবেশ দুটিই বড় সংকটে পড়বে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, কৃষি জমির মাটি কাটার বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।